রংপুরে ঘন কুয়াশা ও শীত: বোরো বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

0
রংপুরে ঘন কুয়াশা ও শীত: বোরো বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

রংপুর অঞ্চলে বেশ কয়েকদিন ধরে চলছে বৈরী আবহাওয়া। ঘন কুয়াশা ও শীত বোরো বীজতলায় জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বীজ তলার বয়স ৪০ থেকে ৪৫ দিন হলে তা জমিতে রোপণ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও কম সময়ে রোপণ করা হয়। কিন্তু চারা রোপণের আগেই শীত ও কুয়াশা বীজতলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। অনেকে পলিথিন দিয়ে বীজ তলা ঢেকে তা রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তবে কৃষি অফিস বলছে বীজতলা পরিচর্যায় কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। 

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা নিজদপা গ্রামের আব্দুল মোতালেব এক একর জমি চাষের জন্য ৪ কেজি ধানের বীজতলা তৈরী করেছেন। একই এলাকার কালাম মিয়া  ৪ একর, মোতাহার মিয়া ৩ একর জমির বোরোধান চাষের জন্য বীজতলা করেছেন।  বৈরী আবাহাওয়ার কারণে তারা বীজতলা নিয়ে চিন্তিত। 

তারা বলেন, এই অবস্থা আর এক সপ্তাজ চললে বীজকলা নষ্ট হয়ে যাবে। তাদের বীজতলার বয়স ২৫ থেকে ৩০ দিন হয়েছে। 

রংপুর নগরীর চিলমন এলাকার চাষি গৌরাঙ্গ রায় বলেন, চাষি এক দোন (২৪ শতক) জমির জন্য চারা কিনতে দাম পড়ে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা। বীজতলা নষ্ট হলে দাম আরও বেড়ে যাবে। তাই তিনি জমিতে রোপণ না করা পর্যন্ত বীজতলায় চারার পরিচর্যা অব্যাহত রাখছেন। আলু উত্তোলনের পর যারা ওই জমিতে বোরো আবাদ করবেন তারা ইতোমধ্যে চারা রক্ষায় শুকনো বীজতলা করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন। প্রায় একই ধরণের দুশ্চিন্তার কথা বললেন পীরগাছা উপজেলার কল্যানি ইউনিয়নের বোরো চাষি নজরুল ইসলাম বুলবুলসহ আরও কয়েকজন।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বোরো মৌসুমে চারা রোপণসহ বোরো ধানের বীজতলা তৈরির ধুম পড়েছে। অনেকে রবি ফসল হিসেবে চাষ করা সরিষা, আলু, গম ও তামাক উত্তোলনের পর ওই জমিতে বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে জন্য কৃষকরা বীজতলা তৈরি করছেন। কিন্তু কুয়াশাসহ আবহাওয়ার বৈরি আচরণে তাদের চিন্তিত করে তুলেছে তাই বীজতলা রক্ষায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী রাতের বেলা কেউ কেউ বীজতলা পানিতে ডুবিয়ে রাখছেন, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন কেউ কেউ। আবার কেউবা ছত্রাকনাশক স্প্রে করে চারা রক্ষার চেষ্টা করছেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পাঁচ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো আবাদ করা হবে। বীজতলার লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপপরিচালক সিরাজুল সিলাম বলেন, এ ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, পানিতে ডুবিয়ে রাখা ও সালফারযুক্ত ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি বীজতলায় জিপসাম ও ইউরিয়া দেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here