পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রংপুর নগরীর ফুটপাত থেকে অভিজাত বিপণি বিতানের সবখানেই ক্রেতাদের ভিড়। নগরীর প্রতিটি মার্কেট, কাপড়ের দোকান, প্রসাধনী ও গার্মেন্টসের শোরুমে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবার-পরিজন নিয়ে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা।
এ অবস্থায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হয়ে পড়েছে। পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে প্রায় আধাঘণ্টা সময় লাগছে। আবার কোথাও আধাঘণ্টার পথ যেতে লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি সময়।
নগরীর প্রেসক্লাব চত্বর থেকে সিটি বাজার, জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে কামাল কাছনা এবং সেন্ট্রাল রোডের বিভিন্ন কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বাজারে থ্রি-পিস বিক্রি হতে দেখা গেছে ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিছু ক্ষেত্রে উন্নত মানের থ্রি-পিসের দাম ১০ হাজার টাকারও বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ক্রেতা চৈতী নামে এক শিক্ষিকা বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করেছি। ভিড় অনেক বেশি, তবে কেনাকাটার আনন্দও আছে।
জিএল রায় রোডের বস্ত্র ব্যবসায়ী শামছুজোহা বলেন, ঈদের শেষ মুহূর্তে বিক্রি বেড়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা কিছুটা বেশি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
এদিকে যানজট পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে মেডিক্যাল মোড় পর্যন্ত সড়কে। প্রায় তিন কিলোমিটার এই পথ পাড়ি দিতে বুধবার সকালে এক যাত্রীর সময় লেগেছে প্রায় এক ঘণ্টা। অথচ হেঁটে গেলে কম সময় লাগত বলে জানান তিনি। একইভাবে, জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে সিটি বাজার পর্যন্ত ৫ থেকে ৭ মিনিটের পথ পাড়ি দিতেও রিকশা বা অটোতে সময় লাগছে প্রায় আধাঘণ্টা।
নগরবাসীর মতে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের ঈদ বাজারের চাপ বেশি। সড়কে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

