রংপুর অঞ্চলে কৃষিতে সুবাতাস লেগেছে। প্রতিবছরই কৃষি অফিসের বেধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফসল আবাদ করছে এই অঞ্চলের কৃষকরা। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও এসব ফসল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
এতে কৃষকদের কোন একটি ফসলে লোকসান হলেও পরবর্তী ফসলে তা পুষিয়ে নিচ্ছেন। জানা গেছে, রংপুর,কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলা নিয়ে রংপুর কৃষি অঞ্চল গঠিত। বর্তমানে এই অঞ্চলে চলছে বোরো আবাদের ভরা মৌসুম। চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর। সেখানে এবার আবাদ হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ১৯৪ হেক্টর।
অপরদিকে আলুতে কৃষকরা লোকসান দিলেও, কৃষি অফিসের লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এবার আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৭০০ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে এক লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর। তবে গত বর্ছরও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে আলুর আবাদ হয়েছিল এক লাখ ১৯ হাজার হেক্টরে।
কয়েক বছর থেকে ভুট্টার অবাদ বাড়ছে এই অঞ্চলে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে ভুট্টার অবাদ হয়েছে। এবার ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৫ হাজার হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ২৩০ হেক্টর। পিয়াজের আবাদও বেড়েছে এই অঞ্চলে। এবার পিঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৯৩১ হেক্টরে। সেখানে আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ১০৪ হেক্টরে।
রংপুর অঞ্চলের উৎপাদিত শাকসবজির খ্যাতি রয়েছে। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। মৌসুমে ঢাকা-রংপুর মগাসড়কের পাশে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় সারিবদ্ধ ট্রাকে শাক-সবজি দেশের অন্য জেলায় যাচ্ছে। এবছর শাক সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪২ হাজার ১৩০ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ৪৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে। প্রায় হারিয়ে যাওয়া ফসল তিল চাষেও রংপুরের কৃষকরা মনোযোগী হয়েছেন। তিল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২৬ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি জমিতে এবার তিলের আবাদ হয়েছে।
জানতে চাইলে কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকরা বছরে জমিতে ৩ থেকে ৪টি ফসল আবাদ করে। ফলে একটি ফসলে লোকসান হলেও পরবর্তীতে ফসলে লোকসান পুষিয়ে নিতে পারেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্য আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হচ্ছে এটি ভাল লক্ষণ। তবে গত বছরের আলুর মত অবস্থা হলে কৃষকরা বাড়তি ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাবেন।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তররের অতিরিক্ত পরচালক সিরাজুর ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের সুষ্ঠু মনিটরিং থাকায় কৃষকরা উৎসাহিত হয়েছেন। ফলে লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে বেশি ফসল উৎপাদন হয়েছে।

