গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তৎক্ষণাৎ পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর ভয়াবহ হামলা চালায় ইরানি সেনারা। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য।
ইরানের এই পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত এক ডজন সামরিকঘাঁটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, এগুলো এখন সুবিধার চেয়ে বিপদই বেশি ডেকে আনছে। বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এই মত দিয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম জানিয়েছিল, এই ঘাঁটিগুলো প্রায় ‘বসবাসের অযোগ্য’ হয়ে পড়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র স্বীকার করেনি।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি বিভাগের পরিচালক মার্ক লিঞ্চ বলেন, “এটি আমেরিকার আধিপত্যের মূল কাঠামো। ইরান মাত্র এক মাসের মধ্যে সেটা কার্যত অকেজো করে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর আসলে কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেটা সঠিকভাবে জানানো হচ্ছে না।”
বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের ঘাঁটিতে প্রায় নয় হাজার সেনা আছে। লিঞ্চ বলেন, “আমার পরিচিতরা সেখানকার ছবি পাঠাচ্ছেন। পরিস্থিতি সত্যিই খারাপ। পঞ্চম ফ্লিট বাহরাইনে ফিরে যাবে বলে মনে হয় না। জায়গাটা এখন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।”
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৯টি ঘাঁটি আছে। এগুলোতে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার পর্যন্ত সেনা মোতায়েন থাকতে পারেন। উপসাগরীয় দেশগুলো এতদিন তেল ও পেট্রোডলারের বিনিময়ে মার্কিন সুরক্ষা পেয়ে আসছিল। কিন্তু এই যুদ্ধে সেই সম্পর্ক নড়বড়ে হয়ে গেছে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শানা আর মার্শাল বলেন, “যখন এই ধরনের সম্পর্কের একপক্ষের সুবিধা এতটা কমে যায়, তখন সম্পর্কটাও ভাঙতে শুরু করে।”
তিনি জানান, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সাথে ঘনিষ্ঠতা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এখন সুবিধার চেয়ে বেশি ‘বোঝা’ হয়ে গেছে।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের তৃতা পার্সি বলেন, “এই ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলা ঠেকাতে পারেনি। বরং হামলার লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে আমেরিকার নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভরতা এখন একেবারে ভেঙে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ইসরায়েলকে নতুন নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে দেখতে পারে। এই পরিবর্তন আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মতো কোনও মার্কিন নিশ্চয়তা ছাড়াই ঘটতে পারে বলে তিনি মনে করেন। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

