যুক্তরাষ্ট্র ‘বিস্ময়কর অর্থনৈতিক অগ্রগতির’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: ট্রাম্প

0
যুক্তরাষ্ট্র ‘বিস্ময়কর অর্থনৈতিক অগ্রগতির’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: ট্রাম্প

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আমলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রশংসা করেছেন।

তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিস্ময়কর অর্থনৈতিক অগ্রগতি’ দেখছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্পের কথায়, তার গৃহীত নীতিতে মুদ্রাস্ফীতি কমেছে, আয়, বিনিয়োগ বাড়ছে এবং এমন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে যা ‘এর আগে সম্ভবত কোনও দেশ দেখেনি’।

বুধবার দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতিতে ভাষণে ট্রাম্প তার সরকারের এক বছরের অর্জন তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আমরা কর কমাচ্ছি এবং বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়াচ্ছি। আমাদের কারখানা নির্মাণের হার ৪১ শতাংশ বেড়েছে এবং মাত্র এক মাসেই আমরা বাণিজ্য ঘাটতি ৭৭ শতাংশ কমিয়ে এনেছি।”

ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়, নিয়ন্ত্রণহীন গণ-অভিবাসন এবং বিদেশি পণ্যের ওপর অতি-নির্ভরশীলতার কারণে ইউরোপ‘সঠিক পথে চলছে না’।

ইউরোপের অভিবাসন সংকট নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “দূর-দূরান্তের দেশগুলো থেকে ভিন্ন সংস্কৃতির বিশাল জনগোষ্ঠী আসার ফলে ইউরোপের অনেক জায়গা এখন আর চেনার উপায় নেই। সত্যি বলতে, কিছু এলাকা এখন নেতিবাচকভাবে বদলে গেছে।”

পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া ‘গ্রিন নিউ ডিল’-কে আবারও ‘ইতিহাসের সবথেকে বড় ধাপ্পাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “জ্বালানি খাত থেকে অর্থ আয় করার কথা, লোকসান দেওয়ার কথা নয়।”

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সংকট নিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, দেশটি ১৯৯৯ সালের তুলনায় এখন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি উৎপাদন করছে।

তিনি বলেন, “তারা নর্থ সি-র মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা জ্বালানি ভাণ্ডারের ওপর বসে আছে, অথচ তা ব্যবহার করছে না। এ কারণেই তাদের জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী, আর সরবরাহ বিপর্যয়ের মুখে।”

ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বুধবারই ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের বিশ্বাস, পুতিন এবং জেলেনস্কি, উভয় পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্প তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ডেনমার্কের এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিকে মার্কিন ও বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য ‘অপরিহার্য’ বলে দাবি করেন। তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে কোনও সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবেন না বলে তিনি বিশ্ব নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন।

ট্রাম্পের এই ভাষণ এমন এক সময়ে এল, যখন দাভোসে বিক্ষোভকারীরা তার অভিবাসন ও পরিবেশ নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। হোয়াইট হাউজের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দিনের এই সম্মেলনে ট্রাম্প বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here