‘যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের ভাগ্য অভিন্ন সূত্রে গাঁথা’, মিউনিখে আশার বাণী শোনালেন রুবিও

0
‘যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের ভাগ্য অভিন্ন সূত্রে গাঁথা’, মিউনিখে আশার বাণী শোনালেন রুবিও

জার্মানির মিউনিখে চলমান ঐতিহ্যবাহী নিরাপত্তা সম্মেলনে (এমএসসি-২০২৬) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘বন্ধুত্ব ও সভ্যতা’ পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক জোটে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে রুবিওর এই ভাষণকে ‘আশ্বাসের বার্তা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সম্মেলনের মূল বক্তব্যে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। আমাদের ঘর হয়তো পশ্চিম গোলার্ধে, কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে আমরা সব সময়ই ইউরোপের সন্তান। আমরা বিচ্ছিন্ন হতে আসিনি, বরং একটি পুরোনো বন্ধুত্বকে নতুন প্রাণ দিতে এবং মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সভ্যতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে এসেছি।

উল্লেখ্য, গত বছর একই সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউরোপীয় নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তার তুলনায় রুবিওর সুর ছিল অনেকটাই নরম ও ইতিবাচক, যা সম্মেলনে উপস্থিত ইউরোপীয় নেতাদের মাঝে স্বস্তি এনেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের ল্যায়েন রুবিওর বক্তব্যকে ‌‌‘অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক’ বলে অভিহিত করেছেন।

তবে সম্পর্কের সুতো বাঁধার কথা বললেও ইউরোপের কিছু অভ্যন্তরীণ নীতির কড়া সমালোচনা করতে ছাড়েননি রুবিও। তিনি ইউরোপের বর্তমান অভিবাসন নীতিকে ‘সভ্যতার জন্য হুমকি’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত নীতিকে ‘ক্লাইমেট কাল্ট’ বা উগ্র মতবাদ বলে আখ্যা দেন। বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও তিনি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবাধ বাণিজ্যের অন্ধ মোহ’ ত্যাগ করার পরামর্শ দেন।

প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিষয়েও নিজের অনড় অবস্থান জানান দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এমন মিত্র চাই যারা নিজেদের রক্ষা করার সক্ষমতা রাখে, যাতে কোনো শত্রু আমাদের সম্মিলিত শক্তিকে পরীক্ষা করার সাহস না পায়।

ইউক্রেন পরিস্থিতি ও জেলেনস্কির শঙ্কা: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্মেলনে বলেন, পুতিন যুদ্ধের দাসে পরিণত হয়েছেন এবং তিনি সহজে ইউক্রেন ছাড়বেন না। আগামী মে মাসে ইউক্রেনে নির্বাচনের গুঞ্জন উঠলেও জেলেনস্কি সাফ জানিয়ে দেন, যুদ্ধ চলাকালীন নির্বাচন সম্ভব নয়। এর জন্য অন্তত দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেছেন যে, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা রুখতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে একটি শক্তিশালী নৌবহর (যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনসহ) মোতায়েন করবে।

ইরান পারমাণবিক চুক্তি: ওমানের মধ্যস্থতায় আগামী সপ্তাহে জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। এদিকে মিউনিখের রাজপথে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ২ লাখ মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

ইউরোপীয় সেনাবাহিনী: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় একটি ‘প্রকৃত ইউরোপীয় সেনাবাহিনী’ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন আগামীকাল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। রুবিওর এই ইতিবাচক বার্তার পর ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here