ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার আঁচ এবার লাগল সাইবার জগতেও। গত মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো বড় কোনো মার্কিন অবকাঠামোয় সাইবার হামলার দাবি করেছে ইরানপন্থী হ্যাকাররা।
মিশিগানভিত্তিক বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রাইকার’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সাইবার হামলার ফলে তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং মাইক্রোসফট এনভায়রনমেন্ট মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। স্ট্রাইকার মূলত ডিফিব্রিলেটর থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্সের খাঁটিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম তৈরি করে থাকে, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি রোগী চিকিৎসাসেবা পান।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে র্যানসমওয়্যার বা ম্যালওয়্যারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে এই হামলার প্রভাব কেবল যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি, আয়ারল্যান্ডে থাকা কোম্পানির কম্পিউটার সিস্টেমগুলোও আক্রান্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শেয়ার বাজারে স্ট্রাইকারের শেয়ারের দাম ৩ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে। এই ঘটনায় মার্কিন স্বাস্থ্য খাতের সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, কারণ হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করে একটি হ্যাকার গোষ্ঠী জানিয়েছে, ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই সাইবার হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৮ জন শিশু নিহত হয়েছে, যা বর্তমানে পেন্টাগন তদন্ত করে দেখছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানে বোমাবর্ষণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা মার্কিন সাইবার স্পেসে পাল্টা আঘাত হানতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলা প্রমাণ করে যে যুদ্ধের ময়দান কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, বরং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা খাতের মতো স্পর্শকাতর জায়গাও এখন সাইবার যুদ্ধের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন

