ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একদল সংসদ সদস্য।
সম্প্রীতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ট্রাম্প ডেনমার্ক, কিউবা এবং কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য ও গোপন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দেন। এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে ক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২০ জন এমপি।
ফিফাকে বহিষ্কার করার কথা বিবেচনা করার জন্য ক্রস-পার্টি গ্রুপটি ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি ও প্লাইড কামরুর মোট ২৩ জন এমপি সংসদে একটি প্রস্তাবে সই করেছেন। সেখানে আন্তর্জাতিক আইন ও অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে মাদুরোর ‘অপহরণ’ এবং ডেনমার্ক, কলম্বিয়া এবং কিউবাসহ অন্যান্য সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার হয়। লেবার এমপি ব্রায়ান লেইশম্যান। যিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তিনি দ্য মিররকে বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ক্রীড়া সংস্থাগুলির দ্বারা পদমর্যাদার ভণ্ডামি। ফিফা বলছে এটি রাজনৈতিক নয়, তবে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরষ্কার দেয়।
ডিসেম্বরে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা প্রেসিডেন্ট তাদের প্রথম ফিফা শান্তি পুরষ্কার প্রদান করে। মি. লেইশম্যান আরও বলেন, একটি সার্বভৌম জাতির উপর আক্রমণ এবং প্রেসিডেন্টকে অপহরণ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমি মাদুরোর খুব সমালোচক, আমি এ বিষয়ে খুব স্পষ্ট হতে চাই, কিন্তু আমরা যা দেখেছি তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
এদিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনবিষয়ক বিশ্লেষক জন জেরাফা মনে করেন, সামনে ফিফা ও আইওসির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তিনি বলেন, এই সংস্থাগুলোর সনদেই শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও বৈষম্যহীনতার কথা বলা আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোভুক্ত ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ডে বল প্রয়োগ করে, তখন কি একই নীতি কার্যকর হবে?

