যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির মুখে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থায় রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পদাতিক শাখার কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরান এখন একটি বহুমুখী ও হাইব্রিড যুদ্ধের মোকাবিলা করছে। যা অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাইবার সবগুলো ফ্রন্টেই ছড়িয়ে পড়েছে। কারামি বলেন, যেকোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আগ্রাসন রুখে দিতে ইরানের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানের বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া সহিংসতায় বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরুতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করলেও গত ৮ জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত বিশেষ কিছু গোষ্ঠী এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সশস্ত্র দাঙ্গায় রূপান্তর করেছে। দুর্বৃত্তরা ব্যাংক, মসজিদ ও সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগসহ সাধারণ মানুষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পর থেকেই তেহরান তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরও একই ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, বিদেশি শক্তির যেকোনো ভুল হিসাবনিকাশ বা তাদের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইরান বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
সূত্র: প্রেস টিভি

