যমুনার চরে বৈচিত্র্যময় ফসলের সমারোহ

0
যমুনার চরে বৈচিত্র্যময় ফসলের সমারোহ

টাঙ্গাইলে যমুনায় জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। সেসব বালুচরে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছে নদীভাঙা মানুষ। কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষাবাদে। বালুতেই ফলাচ্ছেন সোনার ফসল। একরের পর একর জমিতে এখন সবুজের হাতছানি। চাষ হচ্ছে গম, ভুট্টা, গম, আলুসহ নানা জাতের ফসল ও সবজির। 

তবে সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রশ্ন তুলেছেন কৃষি অফিসের তদারকি নিয়েও। কৃষি বিভাগ বলছে, প্রণোদনাসহ কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের যমুনার চরাঞ্চলে এখন চোখ ধাঁধানো বর্ণিল সবুজ ফসলের সরব উপস্থিতি। জেলার নদী বিধৌত উপজেলা গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুরের বালুচরে পলিমাটি জমে এখন উর্বর আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। দিগন্ত বিস্তীর্ণ বালুচরে শোভা পাচ্ছে নানা রকম ফসলের সমারোহ। এবারের বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই চরের চাষিরা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে জমিতে ফসল চাষে সময় দিচ্ছেন। ভুট্টা, সরিষা, ধান, গম, চিনাবাদাম, মিষ্টি কুমড়া, আলু, মিষ্টি আলু, রসুন, পেঁয়াজ, কাউন, মশুর ডাল ও খেসারি ডালসহ প্রায় সব ধরনের শাকসবজি চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। স্বপ্ন দেখছেন অধিক লাভবান হওয়ার। 

তবে কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিস ঠিকমতো তদারকি না করা এবং সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা শঙ্কা কাজ করছে তাদের মাঝে।

যমুনার পলিবাহিত এসব চর যমুনা নদী বেষ্টিত। মাঝখানে বড় দু’টি ইউনিয়নে বসতি গড়ে উঠেছে অনেক আগেই। যদিও বর্ষায় থাকে থৈথৈ জল। উজান থেকে নেমে আসা স্রোতে চরগুলো ডুবে যায় বিশাল জলরাশিতে। নৌকায় এপার ওপার যাতায়াত করতে হয় জনপদের মানুষকে। আর শুকনো মৌসুমে চরাঞ্চলের উর্বর ভূমি ফুঁসে উঠে বৈচিত্র্যময় ফসলে। যেন সবুজের সমারোহ। পলিবাহিত হওয়ার কারণে চরের উর্বরতা শক্তি অনেক বেশি। যে কারণে ওই মৌসুমে চরে চরে ভুট্টা, বাদাম, আলু, মাসকালাই, মরিচ, মুলা, শিম, লাউ, জিরা, সজ, পেয়াজ, রসুন, গম, কাউন ইত্যাদি ফসলের ব্যাপক চাষ হয়। নানা ফসলে দিগন্ত জুড়ে দেখা যায় সবুজের সমারোহ। চরের বাড়িগুলোর প্রতিটি যেন একেকটি খামার। প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় চাষ হয় সবজি।

চরের নারী-পুরুষ সমান তালে মাঠ ঘাটে কাজ করে। বর্ষার ছয় মাস তাদের তেমন কাজ থাকে না। তাই বাকী ছয় মাস কাজ করেই জীবনযাপনের অর্থের যোগান ঠিক রাখেন ওই চরাঞ্চলের মানুষ। পুরুষের সাথে মাঠে নারীরাও কাজ করেন। এমনটাই জানা গেছে চর শুশুয়া, অর্জুনা, চর গোবিন্দসহ কয়েকটি চরের মানুষের সাথে কথা বলে।

চর শ্বশুয়া গ্রামের কৃষক কুদ্দুছ জানান, চরের প্রায় সবাই কৃষি কাজের সাথে জড়িত। কম বেশি সবাই কৃষি কাজ করে। চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি কাজ। তারা সব ধরনের ফসল চাষ করে। কম খরচে অধিক ফসল পাওয়া যায়। চরে বেশি চাষ হয় ভুট্টা।

ছুরহাব মিয়া (৫০) নামের এক কৃষক বলেন, এবার তিনি তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা, দুই বিঘায় মাসকালাই ও ১৫ শতাংশ জমিতে কালো জিরা চাষ করেছেন। শুধু ছুরহাব, আতর আলী, গোলাম আলী, জাহাঙ্গীর আলমই নন, তাদের মত চর তালতলা, চর শুশুয়া, বেহারির চর, জঙ্গিচর, চরসোহাগভাগা, চরকালিপুর, চরচন্দনি, চরবাসুদেবসহ প্রায় সব চরের মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। কৃষি কাজ করে চলে তাদের জীবন জীবিকা।

প্রতিবছর তারা কৃষি কাজে ভালো লাভ পান। বাড়িতে গবাদিপশু পালন করেও লাভবান হন। বর্ষাকালে কৃষিকাজ থাকে না বিধায় এই মৌসুমে কৃষি ফসলের পাশাপাশি বাড়িতে হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া পালন করেন তারা। বর্ষার আগেই অবশ্য গবাদিপশু বিক্রি করে দেয় এসব চরাঞ্চলের কৃষকরা।

ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোখলেছুর রহমান বলেন, এসব চরাঞ্চল কিছু কিছু কৃষি ফসলের জন্য বিশেষ উপযোগী। বাদাম, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, মরিচসহ কিছু ফসল ভালো জন্মে। বন্যায় চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পলি পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে কৃষি ফসলের ভালো ফলন হয়ে থাকে। তাই যমুনার চরগুলো হয়ে উঠে বৈচিত্র্যময় ফসল ও সবজির কারণে দিগন্তজুড়ে সবুজের সমারোহ, যা চরবাসীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here