ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) এবারের মৌসুমকে সামনে রেখে দুর্দান্ত এক পেস বোলিং বিভাগ গঠন করেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। মাথিশা পাথিরানা, হার্শিত রানার পাশাপাশি যেখানে ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের মতো বড় নাম। কিন্তু এই পেস ত্রয়ীকে পাচ্ছে না কলকাতা। এটা কলকাতার বিপক্ষে প্রতিপক্ষের জন্য কাজটা সহজ করে দেবে বলে মনে করছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে মোস্তাফিজকে বাদ দিয়েছে কলকাতা। চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন হার্শিত। একই কারণে টুর্নামেন্টের শুরুর অংশে পাথিরানাকে পাবে না তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। এমন পরিস্থিতিতে কলকাতার বোলিং লাইনকে আগের মতো কার্যকর দেখছেন না অশ্বিন। বরং অতীতের তুলনায় এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বোলিং আক্রমণ বেশ দুর্বল মনে হচ্ছে সাবেক ক্রিকেটারের কাছে।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেন অশ্বিন বলেন, ‘নিলামের পর আমি বলেছিলাম কলকাতার বোলিং আক্রমণ ভালো হয়েছে। কিন্তু এখন মোস্তাফিজুর রহমান নেই, পাথিরানা চোটে আছে, হার্শিত রানাও বাদ পড়েছে। কলকাতার জন্য ইতিবাচক দিক হলো দলে ব্লেসিং মুজারাবানিকে নিয়েছে। সে কঠোর পরিশ্রম করেছে, তাকে নিয়ে আমি আশাবাদী। কিন্তু এত চোটের মাঝে কাউকে তো বড় দায়িত্ব নিতে হবে। এই মুহূর্তে এমন কাউকে আমি দেখতে পাচ্ছি না।’
এবারের আইপিএলে কলকাতার বোলিং আক্রমণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে অশ্বিন আরও বলেন, ‘কলকাতার বোলিং আক্রমণ দেখে এখন আর প্রতিপক্ষ দলগুলো ভয় পাবে না। বৈচিত্র, নতুনত্বের আকর্ষণ আর সেই ভীতি এই বিশেষ দিকগুলো এখন আর নেই। আগে ব্যাটাররা অ্যানালিস্ট রুমে গিয়ে বোলারের হাতের অ্যাকশন দেখত কিংবা শুধু সিঙ্গেল নেওয়ার দিকেই মনোযোগ দিত।’
আগের মতো ফর্ম নেই বরুণ চক্রবর্তী এবং সুনিল নারাইনের। তাদের সেরা চেহারায় ফেরার উপায় বাতলে দিয়েছেন অশ্বিন, ‘বরুণ এখন তার ক্যারিয়ারের এমন এক পর্যায়ে, যেখানে তাকে নতুন করে সমাধান খুঁজতে হবে। তবে এটা প্রতিটি ক্রিকেটারের উন্নতি আর ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক অংশ। আমার মনে হয়, তার নতুনত্বের আকর্ষণটা এখন আর নেই। সুনিল নারাইনও এখন আর আগের মতো দ্রুতগতির বল করতে পারেন না তার বোলিং অ্যাকশনের কারণে। ইডেন গার্ডেনস ছোট মাঠ হওয়ায় প্রতিপক্ষ এখন সহজেই ভাবতে পারে—‘এই দলটা আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না, তাই চল আক্রমণে যাই।’
আইপিএল শুরু হবে আগামী ২৮ মার্চ। কলকাতার মিশন শুরু হবে পর দিন অর্থাৎ ২৯ মার্চ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে খেলতে নামবে তারা। ম্যাচটির ভেন্যু ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম।

