মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চাঞ্চল্যকর শাহজালাল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চুরি হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ইব্রাহিম ওরফে সাগর (২৮) ও ফাহিম (২৪)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ইব্রাহিম ওরফে সাগর গজারিয়া থানার নতুন বালকি এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। অপর আসামি ফাহিম কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দাউদেরখাড়া এলাকার খোরশেদের ছেলে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর গজারিয়া থানায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে—বাউশিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চন নদীর একটি খালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাতনামা পুরুষের মরদেহ পড়ে আছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে নিহতের ভাই মো. জাহাঙ্গীর আলম মরদেহটি তার ভাই শাহজালাল (৩৭) হিসেবে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তথ্যমতে, গত ৫ ডিসেম্বর সকালে শাহজালাল তার ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ৬ ডিসেম্বর বিকেলে তার মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠার খবর পায় পরিবার।
মামলার তদন্তে নামে গজারিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার পাঁচগাছিয়া এলাকা থেকে নিহতের বন্ধু ইব্রাহিম ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর স্বীকার করে জানায়, ঘটনার দিন সে ভবেরচর বাজারের একটি ওষুধের দোকান থেকে Disopan-2 নামের পাঁচটি ঘুমের ট্যাবলেট কিনে। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যায় শাহজালালের সঙ্গে দেখা করে পানীয় ‘স্পিড’-এর সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে খাওয়ায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহজালাল নিস্তেজ হয়ে পড়লে গাড়িতে থাকা দড়ি দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে নির্জন স্থানে কাঞ্চন নদীর খালে ফেলে দেয়। এরপর ইজিবাইকটি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
সাগর আরও জানায়, পরদিন কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায় তার বন্ধু ফাহিমের কাছে ৪৭ হাজার টাকায় ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেয়। একই দিন রাত ৯টার দিকে গজারিয়া থানাধীন ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার দাউদেরখাড়া এলাকায় ফাহিমের বাড়ি থেকে চুরি হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

