নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি এই দুই উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রক্তদহ বিল। এই বিলে প্রতি শীতে অসংখ্য পরিযায়ী (অতিথি) পাখি আশ্রয় নেয়। কিছু কিছু অসাধু শিকারি এই সব অতিথি পাখি শিকার করে কিছু টাকার আশায় বিক্রি করার মতো জঘন্য কাজ করে আসছে। যার কারণে এই বিলে আসা অতিথি পাখিদের সংখ্যা দিন দিন কমতে শুরু করেছে। দেশজুড়ে অতিথি পাখিসহ অন্যান্য পাখি শিকার বন্ধ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
ইতোমধ্যে এমন অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কেউ যেন অতিথি পাখি শিকার করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নওগাঁর রাণীনগরের রক্তদহ বিল পর্যটন এলাকা ও পাখিপল্লির পাশে এক শিকারি সাতটি পরিযায়ী পাখি শিকার করে। পরে সেই পাখিগুলো একজন ক্রেতার কাছে বিক্রি করে। এমন বিষয়টি জানার পর উপজেলার ভাটকৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে ইউএনও, মৎস্য কর্মকর্তাসহ অন্যরা পাখিগুলো বস্তার মধ্য থেকে উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেন। এ সময় এমন ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িতদের কঠোর সতর্কতা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান উপস্থিত সকলের উদ্দেশে রক্তদহ বিলকে অতিথি পাখির জন্য নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উপজেলার রক্তদহ বিলে শীতকালে প্রচুর পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। খাবার ও উষ্ণতার খোঁজে আসা এই অতিথি পাখিগুলোর আশ্রয় নিরাপদ করা যাচ্ছে না মূলত তিন ধরনের মানুষের কারণে। যারা পাখি শিকার করে, যারা বিক্রয় করে এবং যারা এই পাখিগুলোকে খাওয়ার জন্য ক্রয় করে। এই চক্রের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে উপজেলার সকল নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এ ছাড়া তথ্য দিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে সহায়তা করার আহ্বান জানান ইউএনও। সকল লোভ পরিত্যাগ করে রক্তদহ বিলকে অতিথি পাখির আগমন ও অবস্থান নিরাপদ করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।

