আবারও ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানকে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে দেশটির সব ব্রিজ ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই সাথে সময়মতো সহযোগিতা না করায় জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্রদের ওপরও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার (গ্রিনিচ মান সময় বুধবার ০০:০০ টা) মধ্যে ইরানকে ওই জলপথ খুলে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘নরক’ দেখার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রভাবে এমন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে আগামী বুধবার মধ্যরাতের মধ্যে ইরানের প্রতিটি ব্রিজ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল করে দেওয়া সম্ভব।
ট্রাম্প হুংকার দিয়ে বলেন, মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে দেশটির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জ্বলবে এবং বিস্ফোরিত হবে, যা আর কোনোদিন ব্যবহারের যোগ্য থাকবে না। ট্রাম্প পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, তিনি এই ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে না চাইলেও প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবেন না।
ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তার পাশাপাশি ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের মিত্রদের ওপরও ক্ষোভ ঝেড়েছেন। ইরানবিরোধী যুদ্ধে প্রত্যাশিত সহায়তা না পাওয়ায় ন্যাটোকে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকেও একহাত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, উত্তর কোরিয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় এক লাখ মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকলেও প্রয়োজনের সময় এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। মিত্র দেশগুলোর এমন আচরণকে তিনি অসহযোগিতামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা

