মার্কিন এফ-২২ র‍্যাপ্টর যুদ্ধবিমান কেন এতো রহস্যময়?

0
মার্কিন এফ-২২ র‍্যাপ্টর যুদ্ধবিমান কেন এতো রহস্যময়?

বর্তমান বিশ্বের আকাশসীমা রক্ষায় মার্কিন বিমানবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় এফ-২২ র‍্যাপ্টরকে। সম্প্রতি ইসরায়েলে এই যুদ্ধবিমানের মোতায়েন এবং এর আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। লকহিড মার্টিনের বানানো এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি কেবল প্রযুক্তিগত দিক থেকেই সেরা নয় বরং এর নির্মাণ ব্যয় এবং গোপনীয়তা একে বিশ্বের অন্যান্য যেকোনো যুদ্ধবিমানের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে।

প্রতিটি এফ-২২ র‍্যাপ্টরের আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার। তবে গবেষণা, উন্নয়ন এবং আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ যোগ করলে প্রতিটি বিমানের প্রকৃত মূল্য গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৩ থেকে ৩৫ কোটি ডলারে। আকাশচুম্বী এই দামের পেছনে রয়েছে এর অভাবনীয় সব প্রযুক্তি। এই বিমানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর স্টিলথ বা রাডার ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা। বিশেষ জ্যামিতিক নকশা এবং রাডার-শোষণকারী পদার্থের প্রলেপ থাকার কারণে শত্রুপক্ষের রাডারে এটি একটি মার্বেল পাথরের চেয়ে বড় দেখায় না। ফলে প্রতিপক্ষের অগোচরেই এটি নিখুঁত হামলা চালিয়ে ফিরে আসতে সক্ষম।

গতির ক্ষেত্রেও এই যুদ্ধবিমান অনন্য। আফটারবার্নার ব্যবহার না করেই এটি শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে (সুপারক্রুজ) মোডে উড়তে পারে। সর্বোচ্চ ১.৮ ম্যাক গতিসম্পন্ন এই বিমানটি জ্বালানি সাশ্রয় করে দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে পারে। এছাড়া এতে যুক্ত আছে উন্নত সেন্সর ফিউশন প্রযুক্তি, ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে চারপাশের তথ্য সংগ্রহ করে পাইলটের সামনে একটি সমন্বিত ছবি তুলে ধরে।

এত শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকা কেন এই বিমান অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল রয়েছে। মূলত এর অতি-উন্নত স্টিলথ প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম যাতে অন্য কোনো দেশের হাতে না পড়ে, সেজন্য মার্কিন কংগ্রেস আইন করে এর রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছেও এই প্রযুক্তির গোপনীয়তা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর ওয়াশিংটন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here