মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, দাবি রিপোর্টে

0
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, দাবি রিপোর্টে

৪০ দিনের যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত খাতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, টানা হামলায় দেশটির শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ইরানি নাগরিক। যুুদ্ধের এই ৪০ দিনের ধ্বংসযজ্ঞে ইরানের আনুমানিক ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ)। 

আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে ইরানের বেসামরিক খাতে। ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশটিতে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক বাড়ি রয়েছে, যার কিছু আংশিক এবং কিছু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে ধ্বংস হয়েছে ২৩ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। 

হামলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জরুরি ইউনিট ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৫৭টি স্কুল ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

এমনকি রেডক্রসের নিজস্ব ২০টি অবকাঠামোও এ ধ্বংসযজ্ঞের শিকার। এর বাইরে ১৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি জ্বালানি সংরক্ষণাগার, একাধিক বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির চারটি প্রধান কেন্দ্র খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ এবং শারাউদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে অন্তত ২৯টি মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও এ ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র : আল আরাবিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here