মানিকগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে তামাক চাষ। এতে জেলার তিন ফসলি কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে জমিগুলো তামাকনির্ভর হয়ে পড়ছে। একসময় যেসব জমিতে ধান, কলাই, মরিচ ও পেঁয়াজের আবাদ হতো, সেসব জমিতে এখন ব্যাপকভাবে তামাক চাষ হচ্ছে।
জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই তামাকের আবাদ দেখা গেলেও ঘিওর, সাটুরিয়া ও দৌলতপুর উপজেলায় এর প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। কৃষকদের অভিযোগ, সিগারেট কোম্পানিগুলোর নানা সুযোগ–সুবিধা ও আগাম সহায়তার কারণে তামাক চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এতে একদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমির স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তামাক চাষে তুলনামূলক লাভ বেশি হওয়ায় তারা অন্য ফসল ছেড়ে এই ফসলে ঝুঁকছেন। এক বিঘা জমিতে তামাক চাষে খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে সেই তামাক বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক মো. মুখরেছ মোল্লা বলেন, আগে জমিতে ইরি ধান আর সরিষা করতাম। কোনো বছর লাভ হতো, কোনো বছর লোকসান। এখন তামাক চাষ করি, ঝুঁকি কম, লাভ নিশ্চিত।
তিনি আরও বলেন, সিগারেট কোম্পানিগুলো আগেভাগেই বীজ ও সার দিয়ে দেয়, বিক্রিতেও কোনো ঝামেলা নেই। অন্য ফসলের জন্য বাজারে গেলে সময়মতো সার পাওয়া যায় না, দামও বেশি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু একটি এলাকাতেই প্রায় দেড়শ পরিবার তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত। প্রতি বছরই এই সংখ্যা বাড়ছে।
ঘিওর উপজেলার তামাকচাষি আল আমিন বলেন, বারবার তামাক চাষ করার কারণে এখন জমিতে অন্য ফসল ফলতে চায় না। ইচ্ছা থাকলেও বিকল্প চাষ করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মমতাজ সুলতানা বলেন, মৌসুমের শুরুতেই বিভিন্ন তামাক কোম্পানি কৃষকদের প্রণোদনা ও লোভনীয় পরামর্শ দিয়ে তামাক চাষে উৎসাহিত করে। চলতি বছর জেলায় ৩৫৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৩৬০ হেক্টর। আমরা তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি।

