একটি রুদ্ধশ্বাস সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনাতে অতর্কিত হানা দিয়ে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে কব্জা করে নেওয়া হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং সফল বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, পুরো কারাকাস শহরকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দিয়ে মার্কিন বিশেষ বাহিনী এই হামলা চালায়। অন্ধকার ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে মার্কিন সেনারা মাদুরোর বাসভবনে পৌঁছায় এবং তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, এই অভিযানে প্রায় ১৫০টি বিমান অংশ নিয়েছিল এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে মাত্র আধঘণ্টার মতো সময় লেগেছে। আটকের পর মাদুরো দম্পতিকে প্রথমে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস আইও জিমাতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদুরোর একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে তাকে ধূসর রঙের পোশাকে এবং চোখে কালো পট্টি বাঁধা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
মাদুরোর এই আকস্মিক পতনে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চীন, রাশিয়া এবং ইরান এই সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো মার্কিন মিত্ররাও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না ওয়াশিংটন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভেনিজুয়েলা শাসন করা মাদুরোর এই আটক হওয়াকে ইরাক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি

