ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার নিজ প্রাসাদ থেকে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের অপহরণের ঘটনাটি বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযান কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয় বরং আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চরম অবমাননা বলছেন বিশ্লেষকরা।
কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের শয়নকক্ষ থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে নিউইয়র্কের সামরিক ঘাঁটিতে বন্দি করার এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব শাসনের যে কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তা আজ পুরোপুরি ধূলিসাৎ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পতন হঠাৎ করে ঘটেনি। গাজায় চলমান গণহত্যা এবং আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিবেকের যে পতন শুরু হয়েছিল, মাদুরোর অপহরণ তারই চূড়ান্ত পরিণতি। একসময় যে আন্তর্জাতিক আইন বড় দেশগুলোর ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরত, আজ তা কেবল কাগুজে দলিলে পরিণত হয়েছে। যারা আজ মাদুরোর এই পরিণতি দেখে আনন্দিত হচ্ছেন বা উপহাস করছেন, তারা হয়তো মূল বিপদটি আঁচ করতে পারছেন না। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আক্রমণ নয় বরং বিশ্বের সকল রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, মার্কিন আধিপত্যের বাইরে অবস্থান নিলে কোনো নেতারই আর রাজনৈতিক দায়মুক্তি বা নিরাপত্তা নেই। আজ পারমাণবিক শক্তি কিংবা বিশাল সেনাবাহিনীও কোনো রাষ্ট্রকে সুরক্ষা দিতে পারছে না। আধুনিক প্রযুক্তি, অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা এবং নজরদারির মাধ্যমে আজ যেকোনো দেশের সুরক্ষিত অন্দরমহলে ঢুকে আঘাত হানা সম্ভব হচ্ছে। প্রচলিত যুদ্ধের বদলে এখন অপহরণ এবং অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপই বড় শক্তির প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যতের এই নতুন বিশ্বব্যবস্থায় আইনের শাসনের বদলে ‘জঙ্গলের আইন’ প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। যেখানে শক্তিই হবে একমাত্র সত্য এবং দুর্বলের ওপর সবল তার ইচ্ছা চাপিয়ে দেবে। কোনো দেশকে দখল না করে সরাসরি তার নেতৃত্বকে বন্দি করার এই সংস্কৃতি বিশ্বকে এক গভীর অরাজকতা এবং ভয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করার এই প্রবণতা বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি করল, তার মাশুল হয়তো প্রতিটি রাষ্ট্রকেই অদূর ভবিষ্যতে দিতে হবে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

