ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পর গত ৩৬৫ দিনে তিনি মার্কিন রাজনীতি ও বিশ্বব্যবস্থায় এমন সব পরিবর্তন এনেছেন, যা এক কথায় নজিরবিহীন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই পরিবর্তনের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য ও পরিসংখ্যান।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই রেকর্ড ২৬টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এবারের শাসনামল হবে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। গত এক বছরে তিনি মোট ২২৮টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। যা তার প্রথম পুরো চার বছরের মেয়াদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন দেখিয়েছে কঠোরতম অবস্থান। গত এক বছরে অন্তত ৬ লাখ ৫ হাজার মানুষকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাধ্য হয়ে নিজের দেশ ছেড়েছেন। এছাড়া ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষিদ্ধ করার মতো কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতির ময়দানে ট্রাম্পের প্রধান অস্ত্র ছিল ‘শুল্ক’। মিত্র কিংবা শত্রু সব দেশের ওপর গড়ে ১০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছেন তিনি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগারে ২৮৭ বিলিয়ন ডলার জমা হলেও মুদ্রাস্ফীতির চাপে সাধারণ মার্কিনিদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
অন্যদিকে, ইলন মাস্কের নেতৃত্বে গঠিত ‘ডোজ’ বা সরকারি দক্ষতা বিভাগ খড়গ চালিয়েছে কেন্দ্রীয় চাকরিতে। প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার কর্মী ছাঁটাইসহ শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাকে সরাসরি বন্ধ বা একীভূত করে দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের নীতি ছিল চরম অনিশ্চয়তায় ঘেরা। একদিকে শান্তির দূত সাজার দাবি করলেও গত এক বছরে অন্তত সাতটি দেশে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে ভেনেজুয়েলা ছিল সর্বশেষ বড় লক্ষ্য। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অপহরণ হওয়া এই মেয়াদের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
জলবায়ু ইস্যুতেও ট্রাম্প ফিরে গেছেন পুরনো অবস্থানে। প্যারিস চুক্তি থেকে সরে গিয়ে বিশালাকার সমুদ্র এলাকা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন খনিজ তেল উত্তোলনের জন্য। সব মিলিয়ে ট্রাম্প ২.০-এর প্রথম বছরটি ছিল বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা আর মার্কিন একক আধিপত্যের এক তীব্র সংঘাতের সময়।

