ভাঙ্গায় ‘আলোর দিশা’ নামক একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে (রিহ্যাব) ভর্তি থাকা অবস্থায় রাজ্জাক মাতুব্বর (৪০) নামক এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রাজ্জাকের ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠিয়েছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। ভাঙ্গা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নওপাড়া মহল্লার সৈয়দ বাড়িতে অবস্থিত ‘ আলোর দিশা ‘ নামক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র। মৃত রাজ্জাক মাতুব্বর ভাঙ্গা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের আতাদি মহল্লার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা গত মঙ্গলবার মাদকাসক্ত হিসাবে রাজ্জক মাতুব্বরকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেন। শুক্রবার সকালের পর থেকে ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মিজানুর রহমানসহ পরিচালনার সাথে জড়িত কাউকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে রাজ্জাকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ৩০ -৩৫ জন মাদকাসক্ত রোগী নিরাময় কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তারা ভিতর থেকে নিরাময় কেন্দ্রের ভবন ভাঙচুর শুরু করে। এরপর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ, দমকলবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
পাশাপাশি ফরিদপুর জেলা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার ঘটনাস্থলে শুক্রবার বিকালে উপস্থিত হয়ে আলোর দিশা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্ব স্ব পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলীম বলেন, আলোর দিশা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা চিকিৎসাধীন রোগীদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেছি।

