সভ্যতার সাথে পাল্লা দিয়ে মানুষ হয়ে পড়ছে কর্মব্যস্ত। আর এই ব্যস্তময় জীবনকে সহজ করে তুলছে প্রযুক্তি। সংসারের বিভিন্ন বিষয়কে সহজতর করতে তাই প্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য। আর প্রযুক্তির এক বিষ্ময়কর আবিষ্কার হলো রেফ্রিজেরেটর। এই সুবাদেই আপনি নিয়মিত বাজার করার ঝামেলাটাও এড়াতে পারেন।
অনেকেই আবার একসাথে অনেক বাজার করে চিন্তায় পড়ে যান, ফ্রিজে রাখা মাছ অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকবে তো! মাছ কত দিন রাখা যাবে ফ্রিজে? আদৌও কতদিন ভালো থাকবে? মাছ কত দিন পর্যন্ত নিরাপদভাবে রাখা যায়, সে বিষয়টি জানা খুব জরুরি। আর এটি আজকের প্রতিবেদন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক-
মাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রথমেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক প্যাকেটজাত করার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। মাছের টুকরাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে একটি এয়ারটাইট প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে শক্ত করে সিল করে রাখা উচিত। এতে বাতাস ঢুকতে পারে না এবং মাছ দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। ফ্রিজে রাখার সময় বরফযুক্ত ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখা হলে মাছ কিছুটা বেশি সময় টাটকা থাকে।
রেফ্রিজারেটরে রাখা তাজা মাছ বেশিদিন ভালো থাকে না। সাধারণভাবে তাজা মাছ, চিংড়ি, স্ক্যালপ বা স্কুইডের মতো সামুদ্রিক খাবার এক থেকে দুই দিনের মধ্যে রান্না করে ফেলা নিরাপদ। কিছু বড় আকারের মাছ, যেমন টুনা, স্যামন, ট্রাউট বা সোর্ডফিশ তুলনামূলকভাবে একটু বেশি সময়, প্রায় তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে তৈলাক্ত মাছ যেমন ম্যাকারেল, সার্ডিন বা ব্লুফিশ সাধারণত তিন দিনের বেশি ফ্রিজে না রাখাই ভালো। এর বেশি সময় রাখলে স্বাদ, গন্ধ ও নিরাপত্তা- তিনটিই নষ্ট হতে শুরু করে।
যদি দুই দিনের মধ্যে মাছ রান্না করার পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে তা ফ্রিজারে রাখা উত্তম। ফ্রিজারে রাখার আগে মাছ আর্দ্রতা প্রতিরোধক ফ্রিজার পেপার বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে শক্ত করে মুড়িয়ে নিতে হবে, যাতে ভেতরে বাতাস ঢুকতে না পারে। সঠিকভাবে মোড়ানো মাছ ফ্রিজারে দীর্ঘদিন রাখা গেলেও ব্যবহার করার সময় ধীরে ধীরে বরফ গলানো জরুরি। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো রান্নার আগের রাতে মাছ ফ্রিজারের পরিবর্তে রেফ্রিজারেটরের নিচের তাকে রেখে গলানো।
রান্না করা মাছও ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়, তবে এরও সময়সীমা আছে। সাধারণত রান্না করা মাছ ফ্রিজের ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এর বেশি সময় রাখলে স্বাদ খারাপ হয়ে যায় এবং খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অনেকের ধারণা, ফ্রিজে রাখা মাছের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। বাস্তবে, সঠিকভাবে হিমায়িত করলে মাছের প্রোটিন, চর্বি ও ভিটামিন এ ও ডি-এর মতো চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তবে হিমায়িত করার ফলে মাছের স্বাদ ও গঠনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- একবার মাছ গলে গেলে তা কখনোই আবার ফ্রিজে জমিয়ে রাখা উচিত নয়। এতে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া জন্মাতে পারে এবং খাবারটি নিরাপদ থাকে না।
সবশেষে, ভালো মাছ সংরক্ষণের শুরুই হয় ভালো মাছ কেনার মাধ্যমে। তাজা মাছের রং উজ্জ্বল হয়, গন্ধ স্বাভাবিক থাকে এবং ফিলে আর্দ্র ও টানটান দেখায়। ধূসর, নিস্তেজ বা শুকনা দেখতে মাছ এড়িয়ে চলাই ভালো। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে তাজা ও হিমায়িত- দুই ধরনের মাছই পুষ্টিকর ও নিরাপদভাবে খাওয়া সম্ভব।

