মাঘের শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

0
মাঘের শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

কুড়িগ্রামে হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠাণ্ডায় শীত জেঁকে বসেছে। প্রতিদিন তাপমাত্রা কমতে থাকায় এ জনপদে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় গোটা জনপদ ঢেকে থাকে। দিনের বেলা সূর্য উঠলেও তাপমাত্রা তেমন অনুভূত হয় না। ফলে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে তাপ নেয়ার চেষ্টা করছেন। কনকনে শীতের এ ঠাণ্ডায় ভোগান্তিতে পড়েছে সকল স্তরের মানুষজন।
  
শনিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্র। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৯ থেকে ১১ডিগ্রিতে। এছাড়া গত ৩ দিন ধরে কুড়িগ্রামের আকাশে সূর্য মেঘে ঢাকা থাকলেও মাঝে মাঝে সূর্য দেখা যায়। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত হিমেল হাওয়ায় শীতের তাপমাত্রা বোধ করা যায় কম।

অন্যদিকে, কুয়াশা ও শীতের তীব্রতায় কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। বাস,ট্রাক, নৌকা সময়মত শিডিউল রক্ষা করতে পারছে না। অতিরিক্ত ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হলেও দেরিতে অনেকেই কাজ করতে যান। সবকিছু বিলম্বিত হচ্ছে। এদিকে, অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষরা ঠিক মত কাজ করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছে সংকটে। গৃহস্থ ও খামারিরা তাদের পশুগুলোর শীত নিবারণের জন্য সাময়িকভাবে প্রতিদিন সকালে চটের বস্তা দিয়ে ঠান্ডা নিবারণে কাজ  করছেন। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে নদনদী তীরবর্তী এলাকার ও চর-দ্বীপচরের মানুষ।কেননা সেখানে নদীর হিমেল হাওয়া কাহিল করে তুলেছে তাদের। 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, চলতি মাসের শেষে মাঘ মাস শুরু হওয়ায় আরো শৈত্য প্রবাহ দেখা দিতে পারে। অপরদিকে, কুড়িগ্রাম আড়াইশ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা:নুরে নেওয়াজ আহমেদ জানান, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী একটু বেশি আসলেও আমরা যথাসাধ্য তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।যদিও অনেকেই শিশু ও বৃদ্ধ তাদের চিকিৎসা দিতে কোনরুপ সমস্যা হচ্ছেনা। এছাড়াও ঘন কুয়াশায় অনেক বীজতলা শুকিয়ে ও হলুদ রঙে পরিণত হওয়ায় কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। অনেক স্থানে মরে যাচ্ছে বীজের কচি চারাগুলো।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে বোরো বীজ তলার ক্ষতি হতে পারে এবং তা যদি কন্টিনিউ করে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ অব্যাহত রেখেছি। আশা করা যায় বড় ধরণের ক্ষতি হবে না।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, চলতি শীত মৌসুমে জেলায় এখন ৯ উপজেলায় ২৫ হাজার কম্বল সরকারিভাবে বিতরণ করা হয়েছে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here