মহাকাশে কারখানা স্থাপন করছে ফোর্জ

0
মহাকাশে কারখানা স্থাপন করছে ফোর্জ

মহাকাশে হাজার কিলোমিটার উপরে একটি কারখানার কাজ পুরোদমে এগিয়ে কাজ চলছে। সে লক্ষ্যে উচ্চমানের উপকরণ তৈরি করা হবে। পরে তা শিগরগিরই পৃথিবীতে পাঠানো হবে। 

অনেকটা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মতো শোনালেও, পৃথিবী থেকে শত শত কিলোমিটার উপরে অবস্থিত একটি কারখানাকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেস ফোর্জ।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে মহাকোশে কারখানা স্থাপন করার বিষয়টিকে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা জানিয়েছে, তাদের প্রথম স্যাটেলাইটে প্লাজমা তৈরি করেছে, ব্রিটিশ স্টার্টআপটি বলেছে যে এটি একটি মাইলফলক। এটি নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে মূল্যবান সেমিকন্ডাক্টর উপকরণ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সমান আকারের ক্ষুদ্র কারখানা মহাকাশের কক্ষপথে পাঠিয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে কারখানাটিতে ফার্নেস চালু করা হয়েছে।

স্পেস ফোর্জের লক্ষ্য,মহাকাশে এমন উপাদান তৈরি করা, যা সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহৃত হবে। এসব সেমিকন্ডাক্টর পরে পৃথিবীতে এনে যোগাযোগ অবকাঠামো, কম্পিউটিং প্রযুক্তি এবং পরিবহন খাতে ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে আধুনিক ইলেকট্রনিক্সে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য মহাকাশের পরিবেশ আদর্শ। কারণ সেমিকন্ডাক্টরের ভেতরের পরমাণুগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ত্রিমাত্রিক কাঠামোয় সাজানো থাকে। ওজনশূন্য পরিবেশে উৎপাদনের সময় পরমাণুগুলো নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ হয় এবং মহাকাশের শূন্যতায় কোনো ধরনের দূষক ঢোকার সুযোগ থাকে না। ফলে সেমিকন্ডাক্টর যত বেশি বিশুদ্ধ ও সুবিন্যস্ত হয়, তার কার্যক্ষমতাও তত উন্নত হয়।

স্পেস ফোর্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জশ ওয়েস্টার্ন বলেন, আমরা যে কাজটি করছি তার মাধ্যমে মহাকাশে এমন সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা পৃথিবীতে বর্তমানে তৈরি সেমিকন্ডাক্টরের তুলনায় প্রায় ৪,০০০ গুণ বেশি বিশুদ্ধ।

তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যতে ৫জি টাওয়ার, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার এবং আধুনিক উড়োজাহাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হবে। গত গ্রীষ্মে স্পেসএক্সের একটি রকেটের মাধ্যমে কোম্পানিটির এই ক্ষুদ্র কারখানা মহাকাশে পাঠানো হয়। এরপর থেকে কার্ডিফে অবস্থিত মিশন কন্ট্রোল সেন্টার থেকে নিয়মিত এর বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পেস ফোর্জের এই সাফল্য ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক শিল্প উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতেও সক্ষম হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here