মমতার পরবর্তী টার্গেট দিল্লি!

0
মমতার পরবর্তী টার্গেট দিল্লি!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৪ মে। সেক্ষেত্রে প্রথম দফার ভোট শুরু হতে এক মাসও বাকি নেই।

ভোট যত এগিয়ে আসছে, নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন প্রার্থীরা। বিধানসভা নির্বাচনের পরেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী টার্গেট দিল্লি। নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে সেই টার্গেট বেঁধে দিলেন তিনি।

শনিবার (২৮ মার্চ) বর্ধমান জেলার রানীগঞ্জ, পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর ও কাশীপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে সেই টার্গেটের কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেন মমতা। প্রয়োজনে সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে এই কাজ করবেন বলেও ঘোষণা দেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। 

তিনটি সভা থেকেই বিজেপি বিরোধিতার সুর এক সূত্রে গাথা ছিল। তার অভিযোগ, ‘বিজেপি হামলা করে মানুষের ভোট কাটছে। এসআইআর (ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন) এর নামে ১ লাখ ২০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। মানুষের নাম কেটে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে বাংলা থেকে তাড়িয়ে দেবে? আমি বলে যাই একটা লোককেও তাড়াতে দেব না। তার আগে বিজেপিকে তাড়াবো। আগে বাংলা থেকে তাড়াবো, তারপরে সব রাজনৈতিক দলকে দিয়ে দিল্লি থেকে তাড়াবো। কারণ এরা (বিজেপি) থাকা মানে দেশের বিনাশ, দেশের সন্ত্রাস।’ 

আগামীদিনে এই এসআইআর বিজেপির মৃত্যু ঢেকে আনবে বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করে মমতা বলেন, ‘তোমরা বাংলার সর্বনাশ করতে গিয়ে দেশের ক্ষমতা হারাবে।’

মমতা বলেন, ‘বাংলায় জিতে যাতে দিল্লি দখল করা যায়, তার জন্য সকল রাজনৈতিক দল নিয়ে ময়দানে নামব। কারণ এদেরকে (বিজেপি) রাখা যাবে না। কারণ এরা সর্বনাশী দল।’ 

এরপরই মমতার হুঁশিয়ারি, ‘বিজেপি আমার হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে চায়। আরে, আমার ক্ষমতা তো মানুষ। তোমরা বাংলাকে টার্গেট করেছ, আর আমরা দিল্লিকে টার্গেট করেছি। পারলে সামলে নিও।’ 

তার অভিমত, ‘বাংলাকে টার্গেট কেন করেছে জানেন? ওরা বাংলা রাজ্যটাকে উঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।’ এরপরই সভায় উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে মমতার প্রশ্ন, ‘আপনারা কি চান বাংলা উঠে যাক? খাদ্য সাথী, লক্ষীর ভান্ডার বন্ধ হয়ে যাক? যদি না চান, তবে একটি ভোটও তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া অন্য কাউকে নয়। তৃণমূলকে ভোট না দিলে আপনাদের সব কেড়ে নেবে, খাওয়া-দাওয়া, কথা বলা বন্ধ করে দেবে।’ 

গত দুইদিনে রামনবমীর মিছিলে রাজ্যের কিছু জায়গায় অশান্তি, সহিংসতা নিয়েও বিজেপিকে দুষলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মিছিল থেকে বেরিয়ে ওর রঘুনাথগঞ্জে দোকান ভেঙেছে, লুটপাট করেছে। কলকাতার বেহালায়ও অনেক দোকান ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।’ তার দাবি, ‘মানুষের ওপর অত্যাচার করার জন্য যারা এলাকা চিনতো এমন ৫০ থেকে ১০০ জন সরকারি কর্মকর্তাদের তামিলনাড়ু, কেরালায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here