মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ সামরিক ঘাঁটি, কোথায় কত সেনা?

0
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ সামরিক ঘাঁটি, কোথায় কত সেনা?

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। কয়েক দশক ধরেই অঞ্চলটিতে তাদের ঘাঁটি বিস্তৃত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে হামলার পর আবারও সামনে চলে এসেছে প্রশ্নটি। ঠিক কোথায় কোথায় আছে মার্কিন ঘাঁটি, কত সেনা রয়েছে, আর কোন ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব কতটা।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বিভিন্ন হিসাবে সেখানে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার বা তারও বেশি সেনা মোতায়েন আছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধির কারণেই এই উপস্থিতি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নানা ইস্যুতে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততাও স্পষ্ট।

বাহরাইন

মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত। এই বহরের দায়িত্বের আওতায় রয়েছে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের অংশবিশেষ। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এটি।

কাতার

দোহার বাইরে মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত আল উদেইদ এয়ার বেস মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। প্রায় ২৪ হেক্টর আয়তনের এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এর ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর। যার আওতায় মিশর থেকে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল রয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এখানে একটি নতুন এয়ার ও মিসাইল ডিফেন্স সমন্বয় কেন্দ্র চালু করা হয়। আঞ্চলিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করাই এর লক্ষ্য। ইরানের বিক্ষোভের কারণে বুধবারের মধ্যে এখান থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কুয়েত

কুয়েতে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন স্থাপনা। ক্যাম্প আরিফজান মার্কিন আর্মি সেন্ট্রালের ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর। আলি আল সালেম এয়ার বেস ইরাক সীমান্তের কাছে অবস্থিত, দ্য রক নামে পরিচিত। ক্যাম্প বুয়েরিং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় স্থাপিত হয়। এটি ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন সেনাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ও স্টেজিং ঘাঁটি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

আবুধাবির দক্ষিণে আল ধাফরা এয়ার বেস মার্কিন বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আইএসবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রমে এটি ভূমিকা রেখেছে। দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘাঁটি না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় বন্দর ব্যবহার কেন্দ্র।

ইরাক

ইরাকে মার্কিন বাহিনী কয়েকটি ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। আইন আল আসাদ এয়ার বেস পশ্চিম আনবার প্রদেশে অবস্থিত। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরবিল এয়ার বেস উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত। প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদান ও লজিস্টিক সমন্বয়ের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরব

২০২৪ সালে সৌদি আরবে প্রায় ২,৩২১ জন মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল। তারা সৌদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

জর্ডান

আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে আজরাকে অবস্থিত মুয়াফ্ফাক আল সালতি এয়ার বেসে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৩২তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং অবস্থান করছে। এখান থেকে লেভান্ত অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।

তুরস্ক

তুরস্কের আদানা প্রদেশে ইনসিরলিক এয়ার বেস যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক যৌথভাবে পরিচালনা করে। এখানে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রয়েছে। সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে এই ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে তুরস্কে প্রায় ১,৪৬৫ জন মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here