যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স। বুধবার এক বিশেষ বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মোসাভি। সেই সাথে আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উক্ত যুদ্ধে চিহ্নিত হওয়া প্রতিটি দুর্বলতা ইতোমধ্যে কাটিয়ে উঠেছে এবং বর্তমানে ইরানি বাহিনী শত্রুর যেকোনো হামলা গুঁড়িয়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
জেনারেল মোসাভি এমন এক সময়ে এই হুঙ্কার দিলেন যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবার এক উস্কানিমূলক বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলার আহ্বান জানান এবং তাদের সহায়তায় মার্কিন সাহায্য আসছে বলে দাবি করেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পুনঃরায় কোনো আগ্রাসন চালানো হলে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব স্থাপনায় কঠোর আঘাত হানা হবে। গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান কাতারস্থ মার্কিন বিমান ঘাঁটি আল-উদেদ এবং ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিজের শক্তি প্রদর্শন করেছিল।
এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ আবদুররহিম মোসাভি বর্তমান পরিস্থিতিকে গত বছরের যুদ্ধেরই একটি ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরাসরি যুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে শত্রুরা এখন প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ইরানে অস্থিরতা সৃষ্টির ছক কষছে। গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি ইরানে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশি মদদপুষ্ট এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়ে প্রাণহানি ঘটাচ্ছে এবং সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য চরম সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন সর্বোচ্চ তৎপরতায় কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র: প্রেস টিভি

