নিছক মজার ছলে করা একটি ‘প্র্যাঙ্ক’ বা তামাশা শেষ পর্যন্ত এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে রূপ নিল। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় এক হাইস্কুল শিক্ষকের বাড়িতে টয়লেট পেপার ছুড়ে মারার পর সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই শিক্ষককেই গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার রাতের এই মর্মান্তিক ঘটনায় জেসন হিউজ নামে ৪০ বছর বয়সী এক জনপ্রিয় গণিত শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন।
হল কাউন্টি শেরিফ অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত কিশোর জাইডেন রায়ান ওয়ালেসের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি ভেহিকুলার হোমিসাইড বা অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অনধিকার প্রবেশ এবং আবর্জনা ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার রাতে ওয়ালেস এবং তার চার বন্ধু মিলে নর্থ হল হাইস্কুলের ওই শিক্ষকের বাড়ির সামনের গাছগুলোতে টয়লেট পেপার পেঁচিয়ে দিচ্ছিলেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘রোলিং’ নামে পরিচিত। এমন সময় জেসন হিউজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলে কিশোররা আতঙ্কিত হয়ে দুটি গাড়িতে করে পালানোর চেষ্টা করে।
তদন্তকারীদের মতে, ওয়ালেস যখন তার পিকআপ ট্রাকটি চালিয়ে চলে যাচ্ছিলেন, তখন হিউজ হোঁচট খেয়ে রাস্তার ওপর পড়ে যান এবং ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন। দুর্ঘটনার পরপরই কিশোররা গাড়ি থামিয়ে শিক্ষককে সাহায্য করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হিউজকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, ওয়ালেসের সঙ্গে থাকা অন্য চার কিশোরের বিরুদ্ধেও অনধিকার প্রবেশ ও আবর্জনা ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জেসন হিউজের এই অকাল প্রয়াণে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, বরং একজন নিবেদিতপ্রাণ মেন্টর এবং ফুটবল কোচ হিসেবেও সমাদৃত ছিলেন।
হল কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট উইল স্কোফফিল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, জেসন হিউজ ছিলেন একজন স্নেহময় স্বামী ও আদর্শ বাবা। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। হিউজ এবং তার স্ত্রী লরা দুজনেই নর্থ হল হাইস্কুলে গণিত পড়াতেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ‘এনজি৩’ নামক একটি সংস্থার পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন, যা মূলত শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন ও সমাজসেবামূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করে।
সাবেক শিক্ষার্থীরা হিউজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানিয়েছেন, স্নাতক শেষ করার পরও যেকোনো ব্যক্তিগত সমস্যায় তার কাছে পরামর্শ পাওয়া যেত। শনিবার তার স্মরণে স্কুলে জড়ো হয়েছিলেন শত শত শিক্ষার্থী ও সহকর্মী। অভিযুক্ত ওয়ালেস বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তার মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।
একটি সামান্য মজা যে এভাবে একটি সাজানো গোছানো পরিবারকে ধ্বংস করে দেবে, তা মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
সূত্র: এনবিসি নিউজ

