আগামী মাসে সাধারণ নির্বাচনের আগে নেপালে ফিরলেন ক্ষমতাচ্যুত রাজা জ্ঞানেন্দ্র। তাকে স্বাগত জানাতে রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকায় রাজভক্তরা জমায়েত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়। এসময় রাজা জ্ঞানেন্দ্রের প্রত্যাবর্তনের পক্ষে স্লোগান দেন তারা।
সমবেত জনতা ‘রাজাকে ফিরিয়ে আনুন, ‘আমাদের রাজাকে আমাদের নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। সাংবিধানিক রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধার করুন নিয়ে স্লোগান দেয়।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তরুণ প্রজন্ম (জেন জি)-এর বিক্ষোভের জেরে নেপালে পতন হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের। তিনদিন পরে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন।
বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে সেদেশের নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল। ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হয়েছিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ২৩ জানুয়ারি। ২৭৫টি আসনে ভোট দেবেন প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৬৫টি রাজনৈতিক দল।
গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে রাজতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল নেপাল। রাজতন্ত্রের সমর্থক রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির পাশাপাশি গণতন্ত্রপন্থী নেপালি কংগ্রেসের সমর্থকদের একাংশও ‘প্রতীকী রাজতন্ত্রের’ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে রাস্তায় নামে।
সাধারণ নির্বাচনের আগে তাই নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রায় দু’দশক আগে ভারতের উত্তরের প্রতিবেশী দেশ নেপালে প্রচলিত ছিল রাজতন্ত্র। শেষ রাজা ছিলেন জ্ঞানেন্দ্র।
২০০৬ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপরে ২০০৮ সালের মে মাসে সংবিধান সংশোধন করে ২৪০ বছরের পুরনো রাজতন্ত্র ভেঙে নেপালে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। ২০১৫ সালে অনুমোদিত হয় নতুন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সংবিধান।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্ঞানেন্দ্র নেপালের সাধারণ নাগরিক হিসাবে বাস করেন। তার কোনও রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই। অনুমতি নেই রাজপ্রাসাদে যাওয়ার। এমনকি সরকারি কোনও সুবিধাও পান না। নেপালে যখন রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল, সেই সময় দেশটি হিন্দুরাষ্ট্র হিসাবেই পরিচিত ছিল।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে নেপালকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে ঘোষণা করা হয়। পরে দেশের সংবিধানেও সেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ১৭৬৮ সালে সেখানে শাহ রাজবংশের সূচনা হয়েছিল। জ্ঞানেন্দ্রের দাদা রাজা বীরেন্দ্র ছিলেন পৃথ্বীনারায়ণের নবম প্রজন্ম। তাকে হত্যা করে যুবরাজ দীপেন্দ্র আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মৃত্যুশয্যাতেই তার অভিষেক হয়। দীপেন্দ্র বাঁচেননি। ২০০১-এর জুন মাসের সেই হত্যাকাণ্ডের পর জ্ঞানেন্দ্র সিংহাসনে বসেছিলেন।রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মাওবাদী সমস্যার মোকাবিলায় ২০০৫ সালের গোড়ায় নেপালে গণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা হাতে নিয়েছিলেন জ্ঞানেন্দ্র।
তারপরে দ্রুত তার বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে গত তিন বছরে গণবিক্ষোভ রাস্তায় নেমে এসেছে তাকে ‘সিংহাসনে’ ফেরানোর দাবিতে।

