ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় মুকেশ আম্বানি

0
ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় মুকেশ আম্বানি

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে এনেছে মার্কিন বাহিনী। এরপর থেকে দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তারা। 

এই আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দু’টি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তাদের।

মুকেশ আম্বানি বিশ্বের প্রথম সারির জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। গুজরাট রাজ্যের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির যে তেল শোধনাগারটি আছে, সেটি পৃথিবীর বৃহত্তম তেল শোধনাগার। এছাড়াও আরও একটি তেল শোধানগার আছে গুজরাটে। এ দু’টি শোধনাগার সমন্বিতভাবে প্রতিদিন ১৪ লাখ ব্যারেল (এক ব্যারেল=১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে সক্ষম।

ভেনেজুয়েলা তেল সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ। এ মূহূর্তে বিশ্বে যত ভূগর্ভস্থ তেল রয়েছে তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে যখন প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন তিনি ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।

ট্রাম্পের উত্তরসূরি জো বাইডেনের সময়েও এই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তবে সে সময় ভেনেজুয়েলার তেল কেনার জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়েছিল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

লাইসেন্স পাওয়ার পর কবে থেকে রিলায়েন্স ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা শুরু করেছে কিংবা এ পর্যন্ত কী পরিমাণ তেল কিনেছে— সেসব তথ্য বিস্তারিত পাওয়া যায়নি; তবে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উত্তোলনকারী কোম্পানি পিডিভসা-এর নথি থেকে জানা গেছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রিলায়েন্সকে প্রতিদিন প্রায় ৬৩ হাজার ব্যারেল তেল সরবরাহ করেছে পিডিভসা। ভেনেজুয়েলা থেকে তেলের সর্বশেষ চালান এসেছে গত বছর মে মাসে।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউিইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন বাহিনী। তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মার্কিন আদালতে সেই অভিযোগের বিচারের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে মাদুরো এবং সিলিয়া নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন।

মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন— ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের তদারকি এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র করবে। তিনি আরও বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনার জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। কয়েক দিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত পেলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয়ে যৌথভাবে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তাসংস্থা রয়টার্স, তবে রিলায়েন্সের কোনও কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। সূত্র: রয়টার্স, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here