ভিনিসুয়াসের জন্য এই বিশ্বকাপ যে কারণে বিশেষ

0
ভিনিসুয়াসের জন্য এই বিশ্বকাপ যে কারণে বিশেষ

আমেরিকার ক্লিভল্যান্ড শহরটি এমন এক বীরের চারণভূমি, যিনি একদিন নিজের শহরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিলেন। বাস্কেটবলের কিংবদন্তি লেব্রন জেমস এই মাটিতেই ইতিহাস গড়েছিলেন, নিজের খেলাকে নিয়ে গিয়েছিলেন খেলাধুলার সীমানা ছাড়িয়ে এক অনন্য উচ্চতায়। তিনি হয়ে উঠেছিলেন গোটা কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের অধিকারের প্রতীক। এবার সেই একই শহরে, সম্পূর্ণ ভিন্ন এক খেলায়, এক নতুন রাজপুত্র পা রেখেছেন এক বিশাল স্বপ্ন বুকে নিয়ে। তিনি ব্রাজিলের প্রাণভোমরা ভিনিসুয়াস জুনিয়র। ক্লিভল্যান্ডের লেক এরির পাড় থেকেই শুরু হচ্ছে ব্রাজিলের হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি) জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান। রিও ডি জেনিরোর সাঁও গনসালোয় খালি পায়ে ফুটবল খেলা সেই ছোট্ট ছেলেটিই আজ ব্রাজিলের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন আর প্রত্যাশার মূল কাণ্ডারি।

ভিনিসুয়াসের এই লড়াইটা কেবল মাঠের ট্রফি জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার আকাঙ্ক্ষা আরও অনেক গভীরে। তিনি ফুটবলের চেয়েও বড় কোনো উত্তরাধিকার রেখে যেতে চান পৃথিবীর বুকে। আর ঠিক এই জায়গাতেই ক্লিভল্যান্ডের আকাশে-বাতাসে মিশে থাকা লেব্রন জেমসের ছায়ার সাথে তার এক অদ্ভুত সংযোগ তৈরি হয়। ভিনিসুয়াস নিজেই বহুবার স্বীকার করেছেন যে, বাস্কেটবলের ২৩ নম্বর জার্সিধারী এই কিংবদন্তি তার জীবনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। মাঠের সাফল্যকে পুঁজি করে কীভাবে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কথা বলতে হয়, তা লেব্রনের কাছ থেকেই শিখেছেন ভিনিসুয়াস। 

ক্লিভল্যান্ডের স্থানীয় মানুষদের মুখে আজও শোনা যায়, খ্যাতি আর অর্থের চূড়ায় থেকেও লেব্রন কখনো নিজের শেকড়কে ভুলে যাননি। বিখ্যাত ‘আই প্রমিজ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০১২ সালে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ট্রেভন মার্টিনের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে হুডি পরে পুরো দল নিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া; সবখানেই লেব্রন ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর। এমনকি নিজের বাড়িতে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েও তিনি বুক চিতিয়ে লড়েছেন।

ঠিক একই রকম এক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে ভিনিসুয়াস জুনিয়রকেও। গত কয়েক বছরে ইউরোপিয়ান ফুটবলে তাকে ক্রমাগত বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু মাঠের ভেতরে বা বাইরে, কোনো অবস্থাতেই তিনি দমে যাননি। বরং প্রতিবাদের সবচেয়ে জোরালো মুখ হয়ে উঠেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। স্প্যানিশ ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে তার এই লড়াই এখন এক বৈশ্বিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। ভিনিসুয়াসের ভাষায়, লেব্রন জেমসকে তিনি শ্রদ্ধা করেন শুধু তার অতিমানবীয় খেলার জন্য নয় বরং সমাজের জন্য তিনি যা করেছেন তার জন্য। এবার সেই লেব্রন জেমসের নিজের শহর ক্লিভল্যান্ডেই বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞে নামছে ব্রাজিল। ভিনিসুয়াসের জন্য এটি কেবলই বিশ্বজয়ের প্রথম ধাপ নয় বরং নিজের আদর্শের চারণভূমিতে দাঁড়িয়ে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের চিরন্তন লড়াইকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here