একটি ছোট বানর দৌড়ে গিয়ে একটি পুতুলকে জড়িয়ে ধরছে। চারদিকে অন্য বানরদের তাড়া। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ঝড় তোলে। কিন্তু ভাইরাল হওয়া এই মুহূর্তের আড়ালে লুকিয়ে আছে বন্দিদশা, একাকিত্ব আর ব্যবসায়িক স্বার্থের অভিযোগ। এমনটাই বলছেন প্রাণী অধিকারকর্মীরা।
জাপানের টোকিওর ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানার পাঞ্চ নামের ছোট বানরটির একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল বানর তাকে মারধর করছে। তাদের হাত থেকে বাঁচতে সে দৌড়ে গিয়ে একটি পুতুলকে জড়িয়ে ধরে। দৃশ্যটি অনেকের কাছে আবেগঘন ও সুন্দর মনে হলেও বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন কথা বলছেন অধিকারকর্মীরা।
তাদের দাবি, এই ভিডিওর মাধ্যমে চিড়িয়াখানায় প্রাণীটির সঙ্গে হওয়া নিষ্ঠুরতা আড়ালে পড়ে গেছে। বরং ভাইরাল হওয়ার পর বানরটিকে ঘিরে ব্যবসা বাড়ছে। দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। যে পুতুলটি পাঞ্চ জড়িয়ে ধরেছিল, সেই পুতুলের বিক্রিও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পিপল ফর দ্য ইথিকাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমেলস পিটা এক বিবৃতিতে বলেছে, চিড়িয়াখানা কোনো অভয়ারণ্য নয়। এগুলো আসলে পশুদের বন্দীশালা, যেখানে তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয় এবং স্বাভাবিক সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক জ্যাসন বেকার বলেন, অনেকেই ছোট বানরটির আচরণকে কিউট হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু এটি একাকিত্ব ও আপনজন হারানোর শোকার্ত এক অবুঝ প্রাণীর যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি।
তিনি আরও বলেন, প্রাণীদের সঠিক পরিবেশে বাঁচতে না দিলে পাঞ্চের মতো বানরদের এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। যতদিন চিড়িয়াখানাগুলো প্রাণীদের বিনোদনের বস্তু হিসেবে দেখবে, ততদিন এ ধরনের কষ্ট চলতেই থাকবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, পাঞ্চের জন্ম গত জুলাইয়ে। জন্মের পর তার মা তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে সে একাই বড় হচ্ছে এবং তার সঙ্গী একটি পুতুল। পুতুলটি একটি ওরাংওটাংয়ের, যা তৈরি করেছে সুইডিশ কোম্পানি আইকেইএ। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই পুতুলের বিক্রি বেড়েছে।
তবে বর্তমানে বানরটি অন্যান্য বানরের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে এবং তার কাছ থেকে মানুষকে কিছুটা দূরে রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

