বৈশাখী টিভির নতুন ধারাবাহিক নাটক মহল্লা

0
বৈশাখী টিভির নতুন ধারাবাহিক নাটক মহল্লা

১ নভেম্বর থেকে বৈশাখী টিভিতে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘মহল্লা’। পুরান ঢাকার কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠা ধারাবাহিক ‘মহল্লা।’ নাটকের পরিচালক জনপ্রিয় নির্মাতা ফরিদুল হাসান। নাটকটি রচনা করেছেন বিদ্যুৎ রায়। অভিনয় করেছেন একঝাক তারকা। 

তাদের মধ্যে যাহের আলভী, তন্ময় সোহেল, আইরিন সুলতানা, তিথি  ইফতি, আব্দুল্লা রানা, রেশমী আহমেদ, সাবা সুম্মিতা, সিয়াম মৃধা, অন্যান্য ইসলাম, সামিহা, রকি খান, সাইকা আহমেদ, মুকিত জাকারিয়া, আশরাফুল আলম সোহাগ, আযান, মাসুদ মহিউদ্দিন, শহীদ উন নবী, জাবেদ গাজী, সাগর রহমান, মারশাল,সিয়াম, নাসির, রাহি,  আয়েশা নাফিজা,অনুভব, মেহেজাবিন, উপমা আহমেদসহ আরো অনেকে। 

নাটকটি সপ্তাহে তিন দিন শনি, রবি ও সোমবার রাত ৮ টা ৪০ মিনিটে প্রচার হবে। 

নাটকের কাহিনী হলো পুরান ঢাকার কোনো এক মহল্লায় ঠুনকো এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মাসুম ও বাবু। প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডায় জড়ালেও গায়ে হাত তোলার সাহস দেখায় না দুজনের কেউ। মাসুমকে ‘মুরগী মাসুম’ এবং বাবুকে ‘বদনা বাবু’ নাম ধরে ডাকা হয় আড়ালে। মাসুমের বিশ্বস্ত সহযোগী ‘দুম্বা নাসির’ এবং বাবুর বিশ্বস্ত সহযোগী ‘উগান্ডা মানিক’। মাসুম এবং বাবুর এই শত্রুতা তাদের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। 

মাসুমের বাবা হাকিম মুন্সি করাত কলের মালিক, আর বাবুর বাবা বেলায়েত সর্দার স্টক বিজনেস করে। হাকিম এবং বেলায়েতের বন্ধুত্ব ছিলো গভির। কিন্তু কোনো এক বিশেষ কারনে শত্রু হয়ে ওঠে তারা দুজন। সেই শত্রুতা থামেনা বরং আরও প্রকট আকার ধারণ করে তাদের ছেলে মাসুম ও বাবুর কারণে। মহল্লায় আলাদা আলাদা পাশে মাসুম ও বাবু আড্ডা দেয়। তবে তাদের বারবার মুখোমুখি হতে হয় বিশেষ একটা কারণে। সাবেক কাউন্সিলর বিজলীর দুই মেয়ে আদুরী ও ময়নাকে ভালবাসে মাসুম ও বাবু। মাসুম ভালবাসে বড় বোন আদুরীকে, কিন্তু আদুরী এতো সহজে মাসুমের কাছে ধরা দিতে চায় না। তবে ভালবাসার ইঙ্গিত দিয়েই মাসুমের রাতের ঘুম হারাম করে দেয়। 

অপরদিকে বাবু ভালবাসে ছোট বোন ময়নাকে। ময়নাও প্রস্তুত ভালবাসার হাত বাবুর প্রতি এগিয়ে দেবার জন্য, কিন্তু বড় বোন ও মায়ের নজরদারিতে সে সুযোগ খুব একটা পায় না। এদিকে চিরশত্রু বাবু যেন ময়নার সাথে সম্পর্কে জড়াতে না পারে সেজন্য সুযোগ পেলেই ময়নার কাছে বাবুর সম্পর্কে কুৎসা রটায় মাসুম। ঠিক একই ভাবে বাবুও কুৎসা রটায় মাসুমের সম্পর্কে। ঘটতে থাকে মজার মজার ঘটনা। 

অপরদিকে মহল্লায় দীর্ঘ ত্রিশ বছর যাবৎ বসবাস করছে সোবহান-শেলী দম্পতি। ছেলে অনিক ও মেয়ে সূচনাকে নিয়ে তাদের সংসার।

কাজের সূত্রে বরিশাল থেকে ঢাকা আসলেও এখন সোবহান বড় ব্যবসায়ী। সোবহানের মেয়ে সূচনা স্পষ্টবাদী, বদরাগী স্বভাবের। সূচনা ভালবাসে অন্তরকে। অন্তর তুলনামূলক সহজ সরল গোছের। সূচনার অনেক কথাই অন্তরের মাথার উপর দিয়ে যায়, যার অর্থ সে বোঝে না। যে কারণে সূচনা বিরক্ত হয় কিন্তু এতে ভালবাসায় কোনো প্রভাব পড়ে না। অপরদিকে সোবহানের বাউন্ডুলে স্বভাবের ছেলে অনিক এখন যুবনেতা। পলিটিক্সকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়েছে অনিক। সুন্দরী মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো অনিকের নিত্যদিনের রুটিন। তবে তার কোনো প্রেমই বেশি দিন স্থায়ী হয় না। 

ঘটনাক্রমে পাশের মহল্লার স্থানীয় মেয়ে খেয়ার সাথে সম্পর্কে জড়ালে সেটা হিতে বিপরীত হয় অনিকের জন্য। কারন খেয়া স্থানীয় ক্ষমতাধর মাসুমের খালাতো বোন। খেয়ার সাথে সম্পর্কের কারনে মাসুমের চোখে শত্রু হয়ে দাড়ায় অনিক। অপরদিকে, সোবহানের বন্ধু আসাদ পাটোয়ারীর মেয়ে সেতু বাসায় যাতায়াতের সূত্র ধরে ভালবেসে ফেলে অনিককে। যদিও অনিক তাকে মোটেও পাত্তা দেয় না। 

এদিকে, কুষ্টিয়া থেকে এসে মহল্লার বাজারে মুদি দোকান দিয়েছে ফারুক। চালের পাইকারি বিক্রেতা এবং বাজার কমিটির সদস্য সোহেল তার এলাকার এবং পূর্ব পরিচিত। ফারুকের সাথে বন্ধুত্ব হয় ফরিদপুরের আরেক ব্যবসায়ী শরিফের। ফারুক ও শরিফ বুঝতে পারে ব্যবসার ক্ষেত্রে এই বাজারে স্থানীয় নেতা বাবু-মাসুম এবং যুবনেতা অনিক-ইমনের বেশ প্রভাব রয়েছে। ফলে লোভী ও ধুরন্ধর প্রকৃতির ফারুক ও শরিফ নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য কৌশলী হতে আরম্ভ করে। কখনও তারা বাবু-মাসুমদের সাথে তাল মেলায়, আবার কখনও অনিক-ইমনদের সাথে। অর্থাৎ পাল­া যেদিকে ভারী থাকে সেদিকে তারা সমর্থন দিয়ে যায় নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির আশায়। 

গল্প এগিয়ে চলে নানা জটিলতার মধ্যে দিয়ে। জটিলতা কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়। নতুন সাজে সজ্জিত হয় চারপাশ। আজ যে শত্রু সে আগামীকাল বন্ধুতে পরিনত হয়, আবার যে বন্ধু ছিলো সে হয়ে যায় শত্রু সময়ের পালাবদলে। তবুও পুরান ঢাকার এই মহলা যেন মাথা উচু করে দাড়িয়ে থাকে স্বমহিমায়। লোভ, ক্ষমতার অপব্যবহার, সংঘাত বা বিদ্বেসের নয়, বরং জয় হয় মানবতার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here