টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বে অস্থিরতা চলছে। এ নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই’কে কাঠগড়ায় তুলেছেন আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশন সামি-উল-হাসান বার্নি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তই মূলত বর্তমান বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। তার মতে, ভারতীয় বোর্ড যদি আরও সতর্কতা অবলম্বন করতেন, পরিস্থিতি সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যেত।
২০২৬ সালের আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রূপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নেয় মুস্তাফিজকে। তবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিবাদের পর, ভারতীয় বোর্ডকে ওই বাঁহাতি পেসারকে দল থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দিতে হয়। পরে কলকাতা দলও তাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা করে।
এর জবাবে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা দেয়, তারা ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে স্থানান্তর করার জন্য আইসিসিকে দুটি চিঠি পাঠায়, কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে তাদের স্থানে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দেয় যে, তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না। এই ঘটনায় ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
আইসিসির সাবেক কর্মকর্তা এবং পিসিবির মিডিয়া ডিরেক্টরও থাকা বার্নি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘বিসিসিআই যদি আরও কৌশলী হতো এবং মুস্তাফিজকে ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার পথ অবলম্বন করতো, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো যেত।’
বার্নি আরও উল্লেখ করেন, ‘তাদের প্রকাশ্যে এমন বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তারা সহজেই একান্তে কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নির্দেশ দিতে পারত। কখনও কখনও ভুল বিচারের কারণে প্রকাশ্য বিবৃতি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে।’
ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া গত ৩ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিতে কলকাতাকে নির্দেশ দিয়েছেন তারা। সাম্প্রতিক নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

