বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন যেখানে প্রায় সব ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত লক্ষ্য, সেখানে আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খানের কাছে সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা একেবারেই ভিন্ন। তার স্বপ্ন নিজেদের জন্মভূমি আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাওয়া।
২০০১ সালে আইসিসির সহযোগী সদস্য এবং ২০১৭ সালে পূর্ণ সদস্য হওয়া আফগানিস্তান এখনো পর্যন্ত নিজেদের দেশে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি। এই দীর্ঘ বঞ্চনার যন্ত্রণা সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভব করেন দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ খান।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আফগান অধিনায়ক। কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিশ্বের অন্যতম সেরা এই লেগ স্পিনার।
আফগানিস্তানের ক্রিকেট বাস্তবতা তুলে ধরে রশিদ বলেন,’আমাদের দেশে ক্রিকেটের সুযোগ খুব সীমিত, বিশেষ করে ছোট সংস্করণে। চার দিনের ক্রিকেট আছে, কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেট খুব কম। একজন অধিনায়কের জন্য এটা কঠিন, কারণ বিকল্প খেলোয়াড় খুব বেশি নেই। ভারতের মতো দেশে প্রতিদিন অনেক টুর্নামেন্ট হয়, প্রতিযোগিতা আছে, প্রতিভা উঠে আসে। আমরা সবচেয়ে বেশি যেটার অভাব অনুভব করি, সেটা হলো টুর্নামেন্ট।’
প্রতিযোগিতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন,’প্রতিযোগিতা থাকলে খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, কঠোর পরিশ্রম করে। যদি কেউ আফগানিস্তানে স্পিনার হতে চায়, তাকে জানতে হবে মানটা কোথায়। তাকে আমার সঙ্গে, নুর আহমদের সঙ্গে বা মুজিব উর রহমানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আসতে হবে।’
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রশিদ। তার মতে,
‘ব্যাটিংয়েও যদি একই ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, তাহলে আমরা একেবারে অন্য স্তরে পৌঁছাতে পারব। তবে সেটার জন্য দরকার শক্তিশালী ডোমেস্টিক ক্রিকেট কাঠামো। যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে, সেখান থেকেই প্রতিভা আসবে।’
আফগানিস্তানে একদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের স্বপ্ন নিয়েও কথা বলেন রশিদ খান। তাকে প্রশ্ন করা হয়—কাবুলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন কি কখনো দলের মধ্যে আলোচনা হয়? উত্তরে রশিদ বলেন,
‘সত্যি বলতে, এটা বিশ্বকাপ জেতার চেয়েও বড়। আমার জন্য, আমাদের দলের জন্য এবং আফগানিস্তানের প্রতিটি মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা।’
তিনি আরও যোগ করেন,’সেদিন পুরো বিশ্ব দেখবে আফগানিস্তানের মানুষ কেমন, তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের কীভাবে স্বাগত জানায়, কীভাবে ক্রিকেট উপভোগ করে। এটা শুধু খেলা নয়, এর চেয়েও অনেক বড় কিছু।’

