বিশ্বকাপে ইরান না খেললে, যেসব দেশের সম্ভাবনা রয়েছে

0
বিশ্বকাপে ইরান না খেললে, যেসব দেশের সম্ভাবনা রয়েছে

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে চলতি বছরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল ইরান। তবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বসেরাদের মঞ্চে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’ তে আছে ইরান। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ড্র বর্জন করার ঘোষণা দিলেও, ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তেহরান। তবে গ্রুপ প্রতিপক্ষ আর সূচি চূড়ান্ত হলেও নতুন করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরান অংশ না নিতে পারে।সেক্ষেত্রে তাদের জায়গায় কোন দেশ সুযোগ পেতে যাচ্ছে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিশ্বকাপ না খেলার শঙ্কাও আরও প্রকট হয়েছে।

যদি ইরান বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে বা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে অক্ষম হয়, তাহলে ফিফার নিয়মাবলী অনুযায়ী একটি দলের পরিবর্তে ‘নির্ধারিত বিকল্প দলকে রাখা হবে। যা সাধারণত সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার প্লে-অফের সরাসরি রানার-আপ বা সেই মহাদেশের উচ্চতম র‌্যাংকিংয়ে থাকা দল বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে পারবে।

সেক্ষেত্রে ফিফার সামনে দুটি সম্ভাব্য সমাধান থাকতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের পেছনে থেকে নিজেদের এশিয়ান গ্রুপে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা অযোগ্য দল ছিল, পাশাপাশি তারা কনফেডারেশন প্লে-অফে ইরাকের কাছে হেরে যায়। আরেকটি বিকল্প হতে পারে—বিশ্বকাপে ইরানের জায়গায় ইরাককে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে ইরাকের পরিবর্তে আমিরাতকে সুযোগ দেওয়া।

এ বিষয়ে ফিফার বিধিমালার দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, ‘যদি দল বদল বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হয় (সময়সূচি, ভিসা বা ভ্রমণ জটিলতার কারণে), তাহলে সূচি অপরিবর্তিত রেখে গ্রুপের স্থানটি একটি বিকল্প দলকে দেওয়া যেতে পারে; অথবা ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে গ্রুপ বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হতে পারে।’

ইরাক ট্রাম্পের পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নেই। তবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে ইরাকের নাম রয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশ ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপ থেকে দলগুলো প্রত্যাহারের সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিল। ভারত ও ফ্রান্স দুই দেশই টুর্নামেন্টের যোগ্যতা অর্জন করেছিল, কিন্তু ড্রয়ের পরে তারা প্রত্যাহার করে। ভারতের ব্যাখ্যা ছিল—ভ্রমণের খরচ, পর্যাপ্ত অনুশীলনের অভাব এবং দল নির্বাচনের সমস্যা, আর ফ্রান্সের অভিযোগ ছিল তাদের গ্রুপের ম্যাচগুলোর মধ্যে যাতায়াতের পরিমাণ অনেক বেশি।

ফিফা তখন দুটি বিকল্প দলকে টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু সময় যথেষ্ট ছিল না, তাই বিশ্বকাপ পরিকল্পিত ১৫ দলের পরিবর্তে শুধু ১৩ দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here