আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কানাডাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এবারের আসরে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সবমিলিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলা আরব আমিরাতের এটা দ্বিতীয় জয়।
কানাডার বিপক্ষে জুনাইদ সিদ্দিকীর ফাইফারের পর ব্যাট হাতে ফিফটি হাঁকিয়েছেন আরিয়ানশ শর্মা এবং সোহাইব খান। হেসেখেলে জয়ের বন্দরে চলে গেছে আমিরাত।
দিল্লীর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় কানাডা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে কানাডায়িনরা। দলের ১৪ রানের মাথাতে দীপেন্দ্র বাজওয়া ১১ বলে ১১ রান করে বিদায় নিয়েছেন। আরেক ওপেনার যুবরাজ সামরা সুবিধা করতে পারেননি। ৫ বলে ৫ রান করে দলের ১৯ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন তিনি।
তিনে নেমে শক্ত হাতে দলের হাল ধরেন নাভনীত ঢালিওয়াল। চারে নামা নিকোলাস কার্টন সুবিধা করতে পারেননি। ৬ বলে ৪ রান করে বিদায় নিয়েছেন কার্টন। পাওয়ারপ্লের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান তুলেছে কানাডা।
কার্টনের বিদায়ের পর ঢালিওয়ালের সাথে যোগ দিয়েছেন হার্শ ঠাকের। দুজনের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে কিছুটা দিশা ফিরে পায় কানাডা। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট চালিয়েছেন ঢালিওয়াল এবং ঠাকের। দুজনের ব্যাটে ভর করে গতি পায় কানাডার ইনিংস।
ঢালিওয়াল ২৮ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলে দলের ৯৬ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন। ঠাকের আরও কিছুক্ষণ টিকে ছিলেন। শেষ দিকে তার সাথে যোগ দিয়েছেন শ্রেয়াস মোভাও। ঠাকের ফিফটি ছুঁয়েছেন। ৪১ বলে ৫০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে দলের ১২৯ রানের মাথাতে বিদায় নেন ঠাকের।
মোভা খেলেছেন ২১ বলে ২১ রানের ক্যামিও। শেষ দিকে লেজের দিকের ব্যাটারদের অবদান মিলিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় কানাডা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে ৩৫ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেছেন জুনাইদ সিদ্দিকী। এছাড়া মোহাম্মদ জাওয়াদউল্লাহ ১ উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
দলের ১২ রানের মাথাতেই ভেঙেছে ওপেনিং জুটি। অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম সাজঘরে ফিরেছেন ৮ বলে ৪ রানের ইনিংস খেলে। এরপর আলিশান শারাফুকে সাথে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন টিকে থাকা ওপেনার আরিয়ানশ শর্মা। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে দেখেশুনে রান তুলেছেন আরিয়ানশ। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান তুলেছে আমিরাত।
এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন আরিয়ানশ। শারাফু বেশিক্ষণ টিকলেও রান বের করতে পারেননি। ১৩ বলে ৫ রান করে দলের ৪১ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন শারাফু। এরপর মায়াঙ্ক কুমার এবং হার্শিত কৌশিকরাও এক অঙ্কের রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন। লড়াই চালিয়ে গেছেন কেবল আরিয়ানশ। শেষ দিকে আরিয়ানশের সাথে যোগ দিয়েছেন সোহাইব খান। পরিস্থিতি বুঝে রানের গতি বাড়িয়েছেন আরিয়ানশ। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের চাহিদা মিটিয়ে রান তুলেছেন সোহাইবও। দুজনের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে আমিরাতের ইনিংস। ফিফটি ছুঁয়ে আরও সামনে এগিয়েছেন আরিয়ানশ।
অন্যদিকে দলকে জয়ের একদম দ্বারপ্রান্তে নিয়ে ফিফটি ছুঁয়ে আউট হয়েছেন সোহাইব। ২৯ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে দলের ১৫০ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন তিনি। তবে আরিয়ানশ টিকে ছিলেন শেষ পর্যন্ত। ৫৩ বলে ৭৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছেড়েছেন। ২ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয়লাভ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কানাডার হয়ে ৩ উইকেট নেন সাদ বিন জাফর। ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন জাস্কারান সিং এবং কালীম সানা।

