বিজ্ঞাপন নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। এখন থেকে বিতর্কিত বিষয় নিয়ে তৈরি বিভিন্ন ভিডিও থেকেও পুরো অর্থ আয় করা সম্ভব হবে যদি সেইসব বিষয়ে কৃত্রিম নাটকীয়তা বা বীভৎসতা না থাকে।
এসব বিতর্কিত বিষয়ের মধ্যে আত্মক্ষতি, গর্ভপাত, আত্মহত্যা ও পারিবারিক ও যৌন নিপীড়নের মতো বিষয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ। তবে ইউটিউব বলেছে, শিশু নিপীড়ন বা খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগ সম্পর্কিত বিভিন্ন ভিডিও থেকে আগের মতোই পুরো অর্থ আয় করা যাবে না। এ সপ্তাহের শুরুতে নিজেদের ‘ক্রিয়েটর ইনসাইডার’ চ্যানেলে নতুন এক ভিডিওর মাধ্যমে এ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে ইউটিউব।
প্ল্যাটফর্মটি বলেছে, আগে কোনো ভিডিওতে কতটা বিস্তারিত বা বীভৎস বর্ণনা রয়েছে তা বিজ্ঞাপন পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো বিষয় হিসেবে দেখা হত না, এমনকি নাট্যরূপ দেওয়া ভিডিওর ক্ষেত্রেও এমনটি প্রযোজ্য ছিল। ফলে এ ধরনের ভিডিওতে সাধারণত ‘হলুদ ডলার’ আইকন আসত, যা পূর্ণ আয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত। এ সপ্তাহের আপডেটের মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন নিয়ম আরও শিথিল করা হচ্ছে, যাতে কনটেন্ট নির্মাতারা বিজ্ঞাপন থেকে আরও বেশি আয় করতে পারেন।
গুগলের মালিকানাধীন কোম্পানিটি বলেছে, কনটেন্ট নির্মাতাদের মতামতের ভিত্তিতেই এমন পরিবর্তন আনছে তারা। অনেক নির্মাতা অভিযোগ করেছিলেন, ইউটিউবের কড়াকড়ির কারণে বিভিন্ন নাটকীয় বা সমসাময়িক বিষয়ের ভিডিও থেকে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না তারা। যারা সংবেদনশীল গল্প বলেন বা নাট্যরূপ দেওয়া কনটেন্ট তৈরি করেন তারা যেন বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের সুযোগ পান বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে ইউটিউব।
ইউটিউব বলেছে, আমরা বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখেছি ও বুঝতে পেরেছি যে, এ ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন নিয়ম খুব বেশি কঠোর হয়ে গিয়েছিল। ফলে নাটকীয় কনটেন্টের মতো ভিডিও থেকেও আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এ ধরনের ভিডিওতে এমন বিষয় থাকতে পারে, যা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিতর্কিত মনে হলেও শেষ পর্যন্ত এসব ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখাতে আগ্রহী থাকে তারা। যেমন ভিডিওর বিষয় কাল্পনিক হতে পারে বা কেউ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা খুব সাধারণভাবে বর্ণনা করতে পারে। ফলে যতক্ষণ পর্যন্ত ভিডিওতে কোনো বীভৎস বা অতিবিস্তারিত দৃশ্য না থাকছে ততক্ষণ নির্মাতা এখন থেকে আরও বেশি আয় করতে পারবেন।
প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন নিয়ম ধীরে ধীরে শিথিল করছে ইউটিউব, আর ঠিক সে সময়েই এমন পদক্ষেপটি নিল কোম্পানিটি। গেল বছর নিজেদের মডারেটর বা যারা ভিডিও যাচাই করেন তাদের নির্দেশ দিয়েছিল, কোনো ভিডিও যদি জনস্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয় তবে তা প্ল্যাটফর্মের নিয়ম ভঙ্গ করলেও যেন মুছে না ফেলা হয়।
ইউটিউব বলেছে, এখনও কিছু বিষয় রয়েছে, যেখানে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকবে। যেমন শিশু নিপীড়ন বা শিশু পাচার ও খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যার মতো বিভিন্ন বিষয় নতুন সুবিধার আওতায় পড়বে না। এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা বা নাটকীয় ভিডিও তৈরি হলেও তা থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ কোনো অর্থ আয় করা যাবে না।

