বিটিসিএলের তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের নামে মামলা, তদন্তে সিআইডি

0
বিটিসিএলের তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের নামে মামলা, তদন্তে সিআইডি

সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড-২) জয়ীতা সেন রিম্পীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর হাকিম মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলাটি করেন ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির (USET) উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে  প্রতিবেদন দিতে বলেছে। 

‎‎বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিম্ন আদালতে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান মামলার বাদী তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আদালতে এ মামলা করা হয়। আজ (বুধবার) আদেশের বিষয়ে জানতে পেরেছি। 

মামলার আসামিরা হলেন- মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবীর কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২) মো. শাহ আলম সিরাজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়- নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজ (USET) কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ওয়েবসাইট www.uset.ac.bd Ges www.uset.edu.bd পরিচালনা করেন। এডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড যেন কাউকে প্রদান না করা হয় সে বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিটিসিএলকে এক পত্রের মাধ্যমে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ডোমেইন বিষয়ে আপত্তি এসেছে জানিয়েছে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর একটি পত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।  অভিযোগ শুনানি বাবদ ২৩ হাজার টাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কাগজপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। ৩০ নভেম্বর ২৩ হাজার টাকা পে-অর্ডারসহ কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে গিলে তারা তা গ্রহণ না করে ফেরত দেন।  অজুহাত দেন, ডিমান্ড নোট অনুসারে ২৭ নভেম্বর টাকা জমা দেওয়ার মেয়াদ চলে গেছে। 

আরও বলা হয়, আসামিদের নিরপেক্ষতার ঘাটতি দেখে এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই আঁচ করে তাদের দুরভিসন্ধমিূলক কার্যকলাপের প্রতিকার চেয়ে ও ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিস্পত্তির উদ্দেশ্যে তাজুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর  জয়ীতা সেন রিম্পীর রুমে প্রবেশ করে এ বিষয়ে কথা বলতে যান। তবে রিম্পী প্রচন্ডভাবে ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে গালিগালাজ করে, কটু কথা বলে এবং বিটিসিএলের বারান্দায় যেন কোনদিন না দেখে মর্মে হুমকি দেন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবাসইটও বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। তিনি  হাইকোর্টে দায়েরকৃত রীট পিটিশনের ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট রিসিভ করেননি এবং প্রচন্ডভাবে ক্ষিপ্ত হয় আবেদন গ্রহন শাখার কর্মচারীকে আবেদন গ্রহন না করার জন্য নিষেধ করেন। 

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়ার হুমকি, ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহন না করে দাপ্তরিক কাজে অসহযোগিতা বিষয় উল্লখে করে তাজুল ইসলাম তার আইনজীবীর মাধ্যমে আসামিদের গত ১৮ ডিসেম্বর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এরপর আসামিরা ১১ জানুয়ারি বেলা ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি ডোমেইন বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে মর্মে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here