প্রথম দর্শনে ফুলগুলো দেখে মনে হবে শিশুদের ফিডার বা বোতল পরিষ্কার করার ব্রাশের মতো। এ ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Callistemon viminalis। ফুলের অগ্রভাগ ও নিচে রয়েছে সবুজ পাতা। মূলত সৌখিন বৃক্ষ হিসেবে পারিবারিক বাগান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সমাধিস্থল, পার্ক, টিলা ও অন্যান্য স্থানে এই বোতল ব্রাশ ফুলগাছ দেখতে পাওয়া যায়।
বোতল ব্রাশ ফুল মাঝারি ঝাড়-জাতীয় গাছ। এর উচ্চতা ৬ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। বসন্তে গাছে অসংখ্য ফুল ফোটে। এ গাছের ফুল, পাতায় হালকা মিষ্টি একটা গন্ধ রয়েছে। তবে ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে নাকের ভেতর গিয়ে অ্যাজমা রোগীদের হাঁচি-কাশির উদ্রেক বাড়িয়ে দেয়। আর ফুলটি শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষতি করে থাকে বলে এটি ক্ষতিকর গাছ বলেও অনেকের কাছে পরিচিত।
ফুল ফোটার উপযুক্ত সময় বসন্ত তবে সারা বছরে কয়েকবার ফুল ফোটে। হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ রয়েছে ফুলের।
বাংলা একাডেমির সহপরিচালক এবং বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, পায়রাবন্দ, রংপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানান, বেশিরভাগ লাল ফুল দেখা গেলেও এই ফুল কিন্তু লেমন বা হালকা সুবজাভ সাদা রঙেরও হয়ে থাকে। ফুল ফুটলে ছোট পাখি এবং মৌমাছি আকর্ষিত হয়। ফুল শেষে ছোট ছোট ফল হয়। যাতে অসংখ্য বীজ থাকে। বীজ বা কলম থেকে চারা হয়। বন্যপ্রাণীরা এই ফল খেয়ে থাকে। অস্ট্রেলিয়া জুড়ে দেখা যায় এমন একটি খুব সাধারণ উদ্ভিদ বোতল ব্রাশ যার নিজস্ব আধ্যাত্মিক অর্থ হলো প্রাচুর্য, হাসি এবং আনন্দ।