রাজধানীর গুলশানে ৪০ কাঠা জমির ওপর ২৮ তলা নিজস্ব ভবন তৈরি করবে সিটি ব্যাংক। গুলশান অ্যাভিনিউয়ে আগের ২০ কাঠার জমির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আরও ২০ কাঠা জমি কিনছে ব্যাংকটি নিজস্ব ভবন করার জন্য। নতুন করে ব্যাংকটি গুলশানে ২০ কাঠা জমি কেনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য ব্যয় হবে ৩৪৫ কোটি টাকা। জমির দামসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে এই অর্থ খরচ হবে। কিন্তু গুঞ্জন উঠেছে, বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা হচ্ছে এ জমি। সিটি ব্যাংক নতুন করে যে ২০ কাঠা জমি কিনতে যাচ্ছে কাঠা প্রতি হিসেবে তা পড়তে যাচ্ছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কোটি টাকা। যা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। কারণ এখানে যে জমির কথা বলা হয়েছে, তার দাম এতো হওয়ার কথা নয়। জমি ক্রয় বিক্রয় নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের ধারণা এই উচ্চমূল্যে জমি কেনা বেচা হলে পার্শ্ববর্তী জমি ও ভবন মালিকদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু এতো দাম দিয়ে সিটি ব্যাংক কেন জমি কিনছে তা বোধগম্য নয়।
এদিকে, আগের ২০ কাঠা ও নতুন কেনা ২০ কাঠা মিলিয়ে মোট ৪০ কাঠা জমির ওপর নিজস্ব ২৮ তলা ভবন নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। তাতে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে আপাতত খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পেয়েছে ব্যাংকটি।
সর্বশেষ গত বুধবার সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকের নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও এ জন্য নতুন করে আরও ২০ কাঠা জমি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
১৯৮৩ সালে দেশের তৎকালীন ১২ জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মিলে ব্যাংকটি গড়ে তোলেন। ১৯৮৬ সালে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে। গুলশান–২–সংলগ্ন গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ২০ কাঠার জমির ওপর আটতলা ভবনে ছিল প্রধান কার্যালয়। কিন্তু সেখানে সব জনবলের জায়গা না হওয়ায় পুরোনো ভবনটি ভেঙে ২৮ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সিটি ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। সেই হিসাবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে ব্যাংকটি। তাতে বলা হয়, নতুন করে ব্যাংকটি গুলশানে ২০ কাঠা জমি কেনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য ব্যয় হবে ৩৪৫ কোটি টাকা। জমির দামসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে এই অর্থ খরচ হবে। আর আগের ২০ কাঠা ও নতুন কেনা ২০ কাঠা মিলিয়ে মোট ৪০ কাঠা জমির ওপর নিজস্ব সুউচ্চ ভবন নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। তাতে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে আপাতত খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি ব্যাংককে ভবন নির্মাণ ও জমি কেনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর গত বুধবার ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে গুলশানে ব্যাংকটির ২০ কাঠা জমির ওপর যে ভবন ছিল, সেটি ভেঙে নতুন সুউচ্চ ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজউক থেকে ২৮ তলা সুউচ্চ ভবন নির্মাণের অনুমোদনও এর মধ্যে হয়ে গেছে। এই ২৮ তলা ভবনের মধ্যে ৫ তলা বরাদ্দ থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। বাকি ২৩ তলাজুড়ে থাকবে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম। সেভাবেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন জমির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভবনের উচ্চতা ও পরিসর বৃদ্ধির আরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পৃথিবীজুড়ে ব্যাংকের ভবন ও কার্যালয় খুবই নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে থাকে। আমরাও দেশের ব্যাংক খাতে সে রকম একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। এ জন্য আমাদের পরিকল্পনা ও উদ্যোগে সম্মতি দেওয়ার জন্য ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞ। খুব দ্রুততম সময়ে আমরা আমাদের নিজস্ব ভবন তৈরি ও সেখানে কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করব।’
বর্তমানে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকাণ্ড চলছে গুলশানের একটি ভাড়া ভবনে। নিজস্ব জমিতে নতুন করে ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সেখান থেকে প্রধান কার্যালয় সাময়িকভাবে ভাড়া ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়। সিটি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকটির কর্মীর সংখ্যা ৭ হাজার ১০০ জনের বেশি। দেশজুড়ে ব্যাংকটির রয়েছে ১৩৪টি শাখা, ৭০টি উপশাখা।

