বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে গতানুগতিক বাণিজ্যের বাইরে হালাল পণ্যের বড় সম্ভাবনা দেখছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিস. লিসতিওয়াতি।
সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ও ইন্দোনেশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মিস. লিসতিওয়াতি বলেন, গতানুগতিক বাণিজ্যের বাইরে বিভিন্ন হালান পণ্য যেমন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফ্যাশন সামগ্রী, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং উদীয়মান খাতসমূহে দুই দেশের ব্যাপক বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৮-১২ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ পণ্য নিয়ে উক্ত প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত।
মিস. লিসতিওয়াতি জানান, আসন্ন ডি-৮ হালাল এক্সপো কেবল একটি সাধারণ প্রদর্শনী নয়। এটি ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে হালাল ইকো-সিস্টেমকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম।
সভায় ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’-এর উপরে একটি প্রতিবেদন উপস্থানপন করেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল কমিটি ফর ইসলামিক ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্স এর ডিরেক্টর জেনারেল পুতু রাহউইধিয়াসা।
ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) -এর সভাপতি এবং এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী বলেন, ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলো কীভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনে ও বাণিজ্যে হালাল পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করছে, তা দেখার একটি বড় সুযোগ ডি-৮ হালাল এক্সপো।
এর আগে সভায় স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর জানান, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার ও সুদৃঢ় একটি বাণিজ্য সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। যদিও সেই বাণিজ্যে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে আছে।
তিনি মনে করেন, ডি-৮ হালাল এক্সপোর মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের এই বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব আরও বহুমুখী হবে এবং হালাল বাণিজ্যের নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে।
এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন- বাংলাদেশ থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল যেন ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬ এ অংশগ্রহণ করে সে বিষয়ে এফবিসিসিআই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।
সভায় এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক ও বারভিডা’র সভাপতি আব্দুল হক, এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (খোকন), এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাশেম আবুল হাশেম, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, এফবিসিসিআই’র সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, বিডা, ইপিবি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

