প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ আনন্দকে আরও রঙিন করে তুলতে বিশেষ আয়োজন ‘ইত্যাদি’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন জনপ্রিয় নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেত। ১৯৯৯ সালে মিরপুর ন্যাশনাল সুইমিং কমপ্লেক্সের উন্মুক্ত স্থানে প্রথম ঈদের ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয়েছে।
এবার ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’ নির্মিত হয়েছে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের বহিরাঙ্গনে নির্মিত নান্দনিক মঞ্চে।
বরাবরের মতো এবারও অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছে বিখ্যাত গান ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ দিয়ে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এই গানটি পরিবেশিত হয়ে আসছে। এবার গানটিতে অংশ নিয়েছেন ঘরহারা বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও এতিম শিশুরা। তাদের সঙ্গে দর্শকদের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশ।
এবারের ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’র অন্যতম আকর্ষণ একটি দেশাত্মবোধক গান। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন নন্দিত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। তার সঙ্গে গেয়েছেন মনির খান, আগুন, রবি চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, আঁখি আলমগীর ও প্রিয়াংকা গোপ। গানটির কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, মূল সুর করেছেন আলী আকবর রুপু এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। কোরিওগ্রাফিতে ছিলেন এস কে জাহিদ।
এবারের ঈদের ‘ইত্যাদি’তে একটি ব্যতিক্রমধর্মী গান গেয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। গানটির কথা লিখেছেন এস এ হক অলিক এবং সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন হাবিব নিজেই।
অনুষ্ঠানের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ দুই ভুবনের দুই তারকার দ্বৈত সংগীত। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শবনম বুবলী এবং সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে গায়িকা হিসেবে বুবলীর আত্মপ্রকাশ ঘটছে। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল।
এবারের নৃত্য পরিবেশনাতেও রয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। এতে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী তমা মির্জা ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। নৃত্য পরিচালনা করেছেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ।
ঈদের ‘ইত্যাদি’র জনপ্রিয় অংশ মিউজিক্যাল ড্রামাতেও রয়েছে নতুনত্ব। এবারের আয়োজনে ঈদ কেনাকাটা ও সামাজিক বাস্তবতার নানা বিষয় নিয়ে মিউজিক্যাল ড্রামায় অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব, সারিকা সাবরিন, সজল নূর, কুসুম শিকদার, আরফান আহমেদ ও নাসির উদ্দিন খান। আরেকটি মিউজিক্যাল ড্রামায় অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকী।
দর্শক পর্বেও রয়েছে চমক। অতিথি হিসেবে থাকছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম, যিনি দর্শকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত কয়েকজনের সঙ্গে তাৎক্ষণিক অভিনয়ে অংশ নেন।
শিল্পনির্দেশনায় রয়েছেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। সহকারী পরিচালক হিসেবে ছিলেন রানা সরকার ও মামুন মোহাম্মদ। অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন এবং স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।
ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’ প্রচারিত হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ ঈদের পরদিন রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর।

