বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও শাজাহানপুর এই তিন উপজেলার সীমানা ঘেষা প্রত্যন্ত গ্রাম বেড়েরবাড়ী। চারদিকে নদী ও খালের বেষ্টনী থাকলেও ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামে বাঙালি নদীর শাখায় স্থায়ী সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে আছেন এই গ্রামের মানুষ। নদীর উপর বাঁশের তৈরি নড়বড়ে একটি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন তারা।
একমাত্র ভরসা এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ শত শত মানুষ চলাচল করছেন। ওই সাঁকো দিয়ে শিশু ও বৃদ্ধরা চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছেন।
এছাড়া বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন গ্রামের লোকজন। বিশেষ করে বন্যার সময় তীব্র স্রোতে চলাচলের এই সাঁকো ভেঙ্গে যায়। ফলে ওই সময় নৌকা ছাড়া পারপার হওয়া যায় না। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও সেটি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
জানা যায়, বগুড়ার ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামটি সবচেয়ে অবহেলিত। এই গ্রামে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। সেখানে দীর্ঘদিনেও সেতু নির্মাণ করা হয়নি। স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের সাঁকোই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে পারাপার হতে হয়। এছাড়া উপজেলা ও জেলা শহরে আসতে হলে এটিই একমাত্র পথ। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম এলেই বেড়েরবাড়ী গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঁশের সাঁকোটি হয়ে ওঠে আরও বিপজ্জনক। ভরা বর্ষায় তখন নদী পারাপারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় নৌকা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সেই নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়। সেতু না থাকায় সেখানে কৃষিতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ধান, পাট, মরিচসহ কৃষিপণ্য পরিবহনে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।
তারা বলেন, সাঁকোর স্থানে সেতু নির্মাণ করা হলে ভোগান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। নড়বড়ে এই সাঁকোটি পার হতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে বৃদ্ধা ও শিশুদের। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও সেটি আজো পূরণ হয়নি। এদিকে সাঁকোটি ভেঙে গেলে গ্রামবাসী প্রতিবছর তাদের নিজস্ব অর্থায়নে মেরামত করে পারাপারের ব্যবস্থা করে থাকেন।
বেড়েরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার পাইকার জানান, তাদের গ্রামটি সবচেয়ে অবহেলিত। স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটি মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন এলে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির শেষ থাকে না। পরে নির্বাচন শেষ হলে এখানে সেতু নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। এই গ্রামের শত শত মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা বাঁশের এই সাঁকো।
স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক বলেন, বেড়েরবাড়ি গ্রামের শিক্ষার্থীরা বাঙালি নদীর শাখার পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে অনেকেই স্কুলে আসতে পারে না। এতে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে পুরো গ্রামটি। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে বেড়েরবাড়ী গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের পথ সুগম হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সেতু নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে কয়েকবার। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

