বগুড়ার সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের পতিত জমিতে এ বছর কালজিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে কালোজিরার দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কম খরচে অল্প সময়ে কালোজিরা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। বগুড়া সারিয়াকান্দির উপর দিয়ে একসঙ্গে যমুনা, বাঙালি এবং সুখদহ নদী বহমান হওয়ায় এ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় চরাঞ্চল রয়েছে।
প্রতিবছর বিস্তীর্ণ জমি পতিত থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেচ সুবিধা কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা সেখানে কালোজিরার আবাদ বাড়িয়েছেন। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, গত বছর উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে কালোজিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জন হয়েছিল সমান ১০ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছিল গড়ে প্রতি হেক্টরে ১ মেট্রিক টন।
এ বছর সেই আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হেক্টরে। কয়েকদিন আগে বপন করা গাছগুলো এখন সবুজে ভরা, কোথাও কোথাও ফুল ও ফল ধরতে শুরু করেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই মাঠ থেকে ফসল তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা।
উপজেলার কাজলা ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ঘুরে দেখা গেছে, চাষিদের ব্যস্ততা। কৃষক আবু সাঈদ মন্ডল জানান, “গত বছর ১ বিঘায় আড়াই মণ কালোজিরা পেয়েছিলাম। এ বছর ২ বিঘায় আবাদ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো। কয়েকদিনের মধ্যেই কাটাই শুরু করবো।” তিনি আশা করেন, বাজারদর গত বছরের মতোই সন্তোষজনক থাকবে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দু-একটি চাষ দিয়ে বপনের ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাসের মধ্যেই কালোজিরা সংগ্রহ করা যায়। সামান্য সার প্রয়োগ ও সীমিত সেচে ফলন বাড়ে, আর পরিচর্যার প্রয়োজন তুলনামূলক কম। সাধারণত কার্তিকের মাঝামাঝি থেকে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি পর্যন্ত বপনের উপযুক্ত সময়।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, “চরাঞ্চলে কালোজিরার আবাদ দিনদিন বাড়ছে। এটি ঔষধি গুণসম্পন্ন উচ্চমূল্যের ফসল। অল্প সময়ে ভালো লাভ হওয়ায় কৃষকের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

