স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যক্তিগত ছবি–ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এমনকি ব্যাংকিং ও আর্থিক তথ্য—সবকিছুই থাকে এই ছোট্ট ডিভাইসটিতে। কিন্তু হঠাৎ ফোন হাত থেকে পড়ে যাওয়া, স্ক্রিন ভেঙে যাওয়া কিংবা পানিতে ভিজে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা যে কোনো সময়ই ঘটতে পারে। তখন বাধ্য হয়েই ফোনটি মেরামতের জন্য সার্ভিস সেন্টারে দিতে হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফোন সারাতে দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি চুরির অভিযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে থার্ড পার্টি সার্ভিস সেন্টারে ফোন জমা দেওয়ার পর অনেক ব্যবহারকারী ব্ল্যাকমেইলিং বা তথ্য ফাঁসের শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি এড়াতে ফোন মেকানিকের হাতে তুলে দেওয়ার আগে কিছু জরুরি সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন।
১. ‘রিপেয়ার মোড’ চালু করুন
বর্তমান সময়ের অনেক স্মার্টফোনেই Repair Mode বা Maintenance Mode সুবিধা রয়েছে। এই মোড চালু থাকলে টেকনিশিয়ান ফোনের প্রয়োজনীয় ফাংশন পরীক্ষা করতে পারবেন, কিন্তু ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত মেসেজ, ছবি, ভিডিও বা কনট্যাক্ট দেখতে পারবেন না। ফোন সার্ভিসে দেওয়ার আগে সেটিংস থেকে এই মোডটি চালু করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
২. গেস্ট মোড ব্যবহার করুন
যেসব ফোনে রিপেয়ার মোড নেই, সেসব ক্ষেত্রে Guest Mode একটি কার্যকর বিকল্প। এই মোড চালু করলে ফোনে একটি আলাদা ইউজার স্পেস তৈরি হয়। ফলে ফোন আনলক থাকলেও টেকনিশিয়ান আপনার ব্যক্তিগত ফাইল, গ্যালারি বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপে ঢুকতে পারবেন না।
৩. ব্যাকআপ নিয়ে ফোন রিসেট করুন
সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো ফোনটি দেওয়ার আগে সম্পূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ নেওয়া এবং এরপর Factory Reset করে ফেলা। এতে ফোনের ভেতরের সব তথ্য মুছে যাবে। ফোন মেরামত শেষে ব্যাকআপ থেকে আবার সব ডেটা ফিরিয়ে নেওয়া যাবে। বিশেষ করে অপরিচিত বা থার্ড পার্টি দোকানে ফোন দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটিই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
পাসওয়ার্ড কখনোই দেবেন না
অনেক সময় ফোন পরীক্ষা করার অজুহাতে সার্ভিস সেন্টার থেকে লক স্ক্রিনের পাসওয়ার্ড বা পিন নম্বর চাওয়া হয়। মনে রাখতে হবে, কোনো স্বীকৃত সার্ভিস সেন্টারের আপনার ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড জানার প্রয়োজন নেই। পাসওয়ার্ড দেওয়ার অর্থ হলো আপনার ফোনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া।
সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। তাই ফোন মেরামতের আগে এই সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাগুলো মেনে চললে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অনেকটাই নিরাপদ থাকবে।

