২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজন। তবে কানাডার টরন্টো ইতোমধ্যেই নিজেকে আলাদা করে তুলেছে। আয়োজক কমিটি থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নগর প্রশাসন সবার লক্ষ্য এক: শহরের ম্যাচগুলোকে বিশ্বকাপের অন্যতম প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে গড়ে তোলা।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, বিখ্যাত বিএমও ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৬টি ম্যাচ, যার মধ্যে রয়েছে ৪টি গ্রুপ পর্ব, একটি রাউন্ড অফ ১৬ এবং একটি কোয়ার্টার ফাইনাল। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৪৫,০০০ দর্শক এবং ইতিমধ্যেই বড় আয়োজন শুরু হয়েছে।
সম্ভাব্য ম্যাচ সূচি
১৪ জুন ২০২৬ –গ্রুপ পর্ব – ৪৫,০০০, ১৮ জুন ২০২৬ – গ্রুপ পর্ব – ৪৫,০০০, ২২ জুন ২০২৬ – গ্রুপ পর্ব – ৪৫,০০০, ২৬ জুন ২০২৬ – গ্রুপ পর্ব – ৪৫,০০০, ৩০ জুন ২০২৬ – রাউন্ড অফ ১৬ – ৪৫,০০০ এবং ৫ জুলাই ২০২৬ – কোয়ার্টার ফাইনাল – ৪৫,০০০।
প্রথম দিনে বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টিকিট, যা পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় ৩০% বেশি। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল গ্রুপ পর্বের ম্যাচের টিকিটে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার জনপ্রিয় দলের খেলার টিকিট কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
শহর কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রায় ৫ লাখ আন্তর্জাতিক দর্শক টরন্টো ভ্রমণ করবেন। এর ফলে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও বিনোদন খাতে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক প্রবাহ সৃষ্টি হবে। হোটেলগুলো ইতিমধ্যেই বেশিরভাগ সোল্ড আউট।
টরন্টো ট্রান্সপোর্ট বিভাগ বাড়তি সাবওয়ে ট্রেন, বিশেষ বাস ও শাটল সার্ভিস চালাবে। ম্যাচ দিনের জন্য স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক দল ও দর্শকবান্ধব তথ্যকেন্দ্র।
ফিফা কর্মকর্তারা জানান, স্বচ্ছ লটারি পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি হয়েছে, যাতে সবাই সমান সুযোগ পায়।
কানাডা সরকার নিশ্চিত করেছে, টুর্নামেন্টে টরন্টো ছয়টি ম্যাচ আয়োজন করবে, যার মধ্যে থাকবে কানাডার জাতীয় দলের উদ্বোধনী ম্যাচ।
টরন্টো উত্তর আমেরিকার ব্যস্ততম শহরগুলোর একটি। শিল্প, খাবার ও বিনোদনের জন্য ইতোমধ্যেই সুপরিচিত।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নীল উৎপল জানিয়েছেন, টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে একাধিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশজুড়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকের ঢল নামবে, যা বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ও হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
একজন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী বলেন, ‘আমরা শুধু ম্যাচ দেখতে চাই না, আমরা চাই টরন্টো হোক ফুটবলের রাজধানী।’
টরন্টো শহর ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন।

