প্লে-অফ শেষে স্বস্তিতে পিএসজি, পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবনায় এনরিকে

0
প্লে-অফ শেষে স্বস্তিতে পিএসজি, পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবনায় এনরিকে

প্লে-অফের দুই লেগেই তীব্র লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে, দুবারই পিছিয়ে পড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পিএসজি। সবশেষ ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও, লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরে খুশি দলটির কোচ লুইস এনরিকে।

পাশাপাশি এই স্প্যানিশ কোচের মতে, এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শুরু থেকে অন্য সব দলের চেয়ে তাদের অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, খেলতে হয়েছে সব শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে- এতে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আগামী পথচলার জন্য বাড়তি প্রেরণাও পাচ্ছেন তিনি। টানা তিন জয়ে আসরের শুরুটা দারুণ করলেও, পরে পথ হারিয়ে ফেলে পিএসজি। প্রাথমিক পর্বের শেষ তিন ম্যাচে জয়শূন্য থাকায় প্লে-অফে জায়গা হয় তাদের।

আর শেষ ষোলোর এই প্লে-অফের প্রথম লেগে মোনাকোর মাঠে প্রথম ১৮ মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে পিএসজি। পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলে জয় পায় তারা। ফিরতি লেগে বুধবার রাতে ঘরের মাঠেও প্রথমে পিছিয়ে পড়ে এনরিকের দল। দ্বিতীয়ার্ধে ছয় মিনিটের মধ্যে মার্কিনিয়োস ও খাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়ার গোলে এগিয়েও যায় তারা। তবে শেষ সময়ে আবার গোল খেয়ে ম্যাচ ২-২ করে প্যারিসের দলটি।

কাঙ্ক্ষিত জয় না মিললেও, লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় খুশি এনরিকে, পাচ্ছেন স্বস্তিও। তিনি বলেন, যে দেখলাম, তা আমার ভালো লেগেছে কিনা? না, না, আমার ভালো লাগেনি, তবে এটাই ফুটবল। গ্রুপ পর্বে (প্রাথমিক পর্বে) আমাদের সূচি ছিল অবিশ্বাস্য (কঠিন), এরপর মোনাকোর মতো দলের বিপক্ষে এই প্লে-অফ, তারা অসাধারণ এক দল।

তবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে যে তিনি অখুশি, ম্যাচের পর সেটা স্পষ্ট করেই বললেন এনরিকে। তিনি বলেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাটাই এমন, এটা মেনে নিতে হবে। আমার মনে হয়, প্রথমার্ধে আমাদের পারফরম্যান্সের অনেক ঘাটতি ছিল, তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি, এই সময় আমরা দুটি গোল করেছি, খুব ভালো ফল হতে পারতো; কিন্তু শেষের কয়েক মিনিটে আমরা গোলটা হজম করলাম এবং শেষ দিকে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠল। তবে আমরা খুশি। আমরা জানি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে হলে এমন সব প্রতিদ্বন্দ্বিতাই জিততে হবে এবং আমরা এভাবে এগিয়ে যেতে পারদর্শী।

পরের ধাপে পিএসজি খেলবে বার্সেলোনা অথবা চেলসির বিপক্ষে। শুক্রবারের ড্রয়ে সেটা নিশ্চিত হবে; এদিন একই সঙ্গে শেষ ষোলো, কোয়ার্টার-ফাইনাল ও সেমি-ফাইনালের ড্র হবে। প্রাথমিক পর্বে পিএসজিই যে সবচেয়ে কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই এনরিকের।

আসরে এ পর্যন্ত পিএসজির ম্যাচগুলো দেখলেই অবশ্য এনরিকের দাবির পক্ষে যুক্তি মেলে। প্রাথমিক পর্বে পিএসজি যে আট দলের বিপক্ষে খেলেছে, তাদের সাতটিই উঠেছে নকআউট পর্বে-আতালান্তা, বার্সেলোনা, বায়ার লেভারকুজেন, বায়ার্ন মিউনিখ, নিউক্যাসল ইউনাইটেড, স্পোর্তিং ও টটেনহ্যাম হটস্পার। পিএসজির একমাত্র প্রতিপক্ষ আথলেতিক বিলবাও কেবল উঠতে পারেনি। একের পর এক কঠিন সব দলের চ্যালেঞ্জ সামলে এখন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন পিএসজি কোচ। তবে সামনের পথচলার জন্য আরও উন্নতির প্রয়োজনও দেখছেন তিনি। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here