বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত কারখানায় বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা। এছাড়া আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম পরিশোধ করেছে ।
বুধবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, পরিচালক এ.বি.এম. সামছুদ্দিন, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, পরিচালক রুমানা রশীদ, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, পরিচালক সামিহা আজিম এবং বিজিএমইএ এর জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির ও ওয়ান স্টপ সেলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন অবশিষ্ট ২টি কারখানার ও ঈদ বোনাসের অবশিষ্ট ৪টি কারখানা দেয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মহাসড়কে চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বর্তমান সময়টিতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি-এই তিনটি বড় চাপ একযোগে পোশাক শিল্পকে প্রভাবিত করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি বলেন, ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে তহবিল সংগ্রহ করে উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিজিএমইএ এর তথ্য অনুযায়ী কিছু সংখ্যক কারখানায় বড় ধরনের আর্থিক সংকট ছিল। বিজিএমইএ পক্ষ থেকে মালিক, ব্যাংক এবং শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর সাথে সমন্বয় করে সেই কারখানাগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত স্বস্তির সাথে জানাচ্ছি, বিজিএমইএ এর তালিকাভুক্ত এমন কোনো কারখানা নেই, যেখানে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে অমীমাংসিত কোনো সমস্যা রয়েছে।

