পোশাক রপ্তানিতে ভাটার টান

0
পোশাক রপ্তানিতে ভাটার টান

পোশাক রপ্তানিতে চলছে ভাটার টান। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩.৭৩ শতাংশ।

জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে এই খাত থেকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে দুই হাজার ৫৮০ কোটি মার্কিন ডলার। এ সময় ইইউতেও রপ্তানি কমেছে ৫.৪৯ শতাংশ। তবে সবচেয়ে হতাশাজনক হলো, উদীয়মান বাজারেও কমছে রপ্তানি আয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। আলোচ্য সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ২৬৯ কোটি ডলারের পোশাক, যা মোট পোশাক রপ্তানির ৪৯.১৮ শতাংশ। তবে এই বাজারে সাড়ে ৫ শতাংশের মতো রপ্তানি কমেছে। ইউরোপের কয়েকটি বড় বাজারে খুচরা বিক্রি কমে যাওয়া এবং ক্রেতাদের অর্ডার কমানোর প্রবণতার প্রভাব এতে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৫০৩ কোটি ডলারের পণ্য, যা মোট রপ্তানির ১৯.৫০ শতাংশ। তবে এই বাজারেও সামান্য পতন দেখা গেছে; আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি ০.৭৪ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়ায় পোশাকের অর্ডার কিছুটা কমেছে। তবে কয়েকটি বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। কানাডায় এই সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.০৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে ২৯৭ কোটি ডলারের, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১.২২ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীল চাহিদা থাকায় প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৪২৪ কোটি ডলারের, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৬.৪৪ শতাংশ। তবে এসব বাজারে রপ্তানি ৬.৩৪ শতাংশ কমেছে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বাজারে অর্ডার কমে যাওয়ার প্রভাব এতে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতের দুটি প্রধান পণ্যের ক্ষেত্রেই কিছুটা হ্রাস হয়েছে। নিটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি কমেছে ৪.৫৬ শতাংশ, আর ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমেছে ২.৭৯ শতাংশ। যদিও উভয় খাতই এখনো বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

এই প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ জোরদার করা গেলে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আবার বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, উৎপাদন দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর জোর দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে।  সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here